প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেট বিভাগের চার জেলায় আবারও বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতমধ্যে বিভিন্ন স্থানে ফসলের মাঠ ডুবে গেছে। নিম্নাঞ্চলের মানুষ পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। দু‘দিনের বর্ষণ ও উজানের ঢলে নদ-নদীর পানি উপছে সিলেট অঞ্চলে সাড়ে ১৯ হাজার হেক্টর রোপা আমন জমি নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী ক্ষতি হয়েছে সুনামগঞ্জ জেলার ৮ উপজেলায়। সেখানে ১৫ হাজার ৭০ হেক্টর জমির আমন ফসল তলিয়ে গেছে।
গত মাসের মাঝামঝি সময়ে অতি বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢল শুরু হয় এ্বং পক্ষকাল ব্যাপী বন্যায় সিলেট অঞ্চলে ২১০ কোটি টাকার ক্ষতি সাধন করে। এর পর বন্যার পানি কমে গেলে কৃষক আবার আমন রোপন করে-এরই মধ্যে আবারো প্রবল বর্ষণ ও ঢল যেন ‘মড়ার উপর খাড়ার ঘা’ হয়ে পড়েছে। তবে কৃষি বিভাগ বলেছে দ্রুত পানি নেমে গেলে ক্ষতি তেমন হবেনা।
এদিকে বর্ষণে নগর জীবন থমকে গেছে্ নগরীর ভাঙ্গা রাস্থায় পানি জমে জন দুর্ভোগ মারাত্মক হয়ে উঠেছে। গোয়াইনঘাট উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের লোকজন পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ইউনিয়ন তিনটি হচ্ছে-পূর্ব জাফলং, আলীরগাঁও ও রুস্তুমপুর ইউনিয়ন। এ তিনটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার লোকজন পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। গত সোমবার থেকে সেখানে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। মঙ্গলবার ভোর ৫ টা থেকে পাহাড়ি ঢল নামতে থাকে। যে কারণে উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের লোকজন পানিবন্দী হয়ে পড়েন। উপজেলার সর্বত্র পানিবৃদ্ধি অব্যাহত আছে। সারি ও পিয়াইন নদী দিয়ে প্রবল বেগে ঢলের পানি প্রবাহিত হচ্ছে। কোমপানীগঞ্জের ধলাই নদী দিয়ে প্রবল বেগে ঢলের পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ঢলের পানি ধলাই নদীর দুকুল উপচে পড়ছে পানি। মঙ্গলবার দিনভর মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়। নগরীর সবকটি ছড়া-নালা উপচে পানি প্রবাহিত হয়। আবহাওয়া অফিস জানায় সোমবার নগরীতে ৭৫ মি.মি ও মঙ্গলবার ৪৯ মি.মি বৃষ্টিপাত হয়।