পুরানো ঢাকার বংশাল থানাধীন নবাবপুরের একটি আবাসিক হোটেলে মনিরুজ্জামান মনির (৪০) নামের এক সাংবাদিকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তিনি দৈনিক ভোরের কাগজ ও দেশ টিভির ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধি। মঙ্গলবার দুপুরে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি।
বংশাল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল হাসান জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় মনিরুজ্জামান বংশালের ১৬৫ নবাবপুরের সাদমান ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে ওঠেন। তিনি হোটেলের ৬০৩ নম্বর রুমে ছিলেন। তার সঙ্গে পটুয়াখালীর বাউফল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হারুন উর রশিদ ও ঝালকাঠির স্থানীয় সাংবাদিক আখতারুজ্জামান পাশের কক্ষে উঠেছিলেন। সোমবার তিনি অসুস্থতা বোধের কথা হোটেল কর্মচারীদের জানান। মঙ্গলবার দুপুর দুইটার দিকে তিনি বমি করতে থাকেন। একপর্যায়ে কক্ষের বেডের ওপর অচেতন হয়ে পড়লে পাশের কক্ষ থেকে তার দুই সহকর্মী ছুটে আসেন। পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিত্সকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় বংশাল থানায় কোনো মামলা হয়নি।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান, মনিরুজ্জামানের দুই সহকর্মী ও সাদমান হোটেলের দুই কর্মচারী সোহেল ও আনিস তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে।
পুলিশ আরো জানায়, কী কারণে মনিরুজ্জামানের মৃত্যু হলো, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ হোটেলের ঐ কক্ষ থেকে কিছু আলামত জব্দ করেছে।
ঝালকাঠির সদর উপজেলার ৫৮ বাহের রোড, জননী ভিলায় মনিরুজ্জামান মনিরুজ্জামানের বাড়ি। তার বাবার নাম আব্দুল মজিদ হাওলাদার। তিনি ঝালকাঠি প্রেসক্লাব ও ঝালকাঠি টেলিভিশিন সাংবাদিক সমিতির সদস্য ছিলেন।