সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মেজর জেনারেল মো. আবুল মঞ্জুর হত্যা ও সেনা বিদ্রোহে জড়িত থাকার মিথ্যা অভিযোগে ১৩ জন মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তাদের হত্যায় এইচ এম এরশাদ জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন সেনাবাহিনীর সাবেক কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকতা। তাঁরা এ জন্য এরশাদের বিচার দাবি করেছেন।
‘১৯৮১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তথাকথিত সেনা বিদ্রোহের প্রহসনমূলক সাজানো বিচারে ১৩ জন মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তার ফাঁসি ও প্রাসঙ্গিক বিষয়’ শীর্ষক আজ মঙ্গলবার এক আলোচনায় এ দাবি জানানো হয়। ‘২৩ সেপ্টেম্বর স্মৃতি সংসদ’ নামের একটি সংগঠন জাতীয় প্রেসক্লাবে এ আলোচনার আয়োজন করে। বক্তারা নিহত সেনা কর্মকর্তাদের কোর্ট মার্শালে বিচারের বিষয়ে ২০০১ সালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নেরও দাবি জানান।
ওই সংসদীয় কমিটির সভাপতি ছিলেন সাবেক সেনাপ্রধান কে এম সফিউল্লাহ। তিনি বলেন, জেনারেল মঞ্জুর পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। কিন্তু তাঁকে ঠান্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। কারা কীভাবে গুলি করে, সেটা নিয়ে সেনাবাহিনীতে কোনো তদন্ত হয়নি। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান, আবুল মঞ্জুর ও ১৩ সেনা কর্মকর্তা হত্যার বিচার হওয়া উচিত।
কমিটির সদস্য কর্নেল (অব.) শওকত আলী বলেন, কোর্ট মার্শাল ও ফাঁসির রায় অন্যায্য ও আইনবহির্ভূত ছিল। তাই কোর্ট মার্শালের রায় বাতিলের জন্য তখন সংসদীয় কমিটি সুপারিশ করেছিল। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন ও ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। তিনি ওই সুপারিশ বাস্তবায়ন করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হারুন-অর-রশিদ বলেন, সেনা কর্মকর্তাদের বিচারের জন্য গঠিত কোর্ট মার্শালের কোনো নথি সেনাবাহিনীতে নেই। সবই নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৮১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর এসব সেনা কর্মকর্তার ফাঁসির দিনে নজিরবিহীনভাবে সব সেনানিবাসে কারফিউ দেওয়া হয়, যাতে সেনাসদস্য বা কর্মকর্তারা কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাতে না পারেন। এইচ এম এরশাদকে ‘জঘন্য-ধুরন্ধর ব্যক্তি’ বলে মন্তব্য করে হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল কীভাবে এরশাদকে পাশে নেয়?’
আলোচনা সভার প্রধান অতিথি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, ওই ১৩ সেনা কর্মকর্তাদের বিষয়ে সংসদীয় কমিটির সুপারিশ আইনসংগত ছিল। এগুলো বিবেচনার দাবি রাখে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করা উচিত। তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করবেন বলে আশ্বাস দেন।
পরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার সুযোগ থাকলেও এরশাদ যোগ দেননি। তাই তাঁকে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি বলা যায় না। মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক মহাসচিব নঈম জাহাঙ্গীর তাঁর বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের পদ থেকে এরশাদকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক, ২৩ সেপ্টেম্বর স্মৃতি সংসদের যুগ্ম সম্পাদক মেজর (অব.) রেজাউল করিম, মেজর (অব.) আকতারুজ্জামান প্রমুখ। সঞ্চালক ছিলেন সাংবাদিক জুলফিকার আলী মানিক।