শাবিতে ছাত্রলীগের ধর্মঘট, সড়ক অবরোধ

 
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা উত্তম কুমার দাসের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছে ছাত্রলীগ। বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে এই ধর্মঘট শুরু হয়। একই সঙ্গে তারা সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক তিন ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন।
সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন ছাত্রলীগকর্মীর। পরে সকাল ১১টা পর্যন্ত প্রায় তিন ঘণ্টা সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে টায়ার জালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো: আমিনুল হক ভূইয়া ঘটনাস্থলে এসে দোষীদের গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেন ছাত্রলীগ কর্মীরা। ধর্মঘটের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগে ক্লাস ও পরীক্ষা হয়নি।  বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বাস ক্যাম্পাসে ঢুকতে বা বের হতে পারেনি। এই ঘটনায় ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি উত্তপ্ত রয়েছে। 
প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে একটি রেষ্টুরেন্টে বসে ছাত্রলীগ নেতা উত্তম কুমার দাস নেতা-কর্মীদের সংঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এমন সময় ৩-৪টি মোটর সাইকেলযোগে মুখোশধারীরা উত্তমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। এতে তার দুই হাত, পা, পেটসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম হয়। এসময় অইনুল নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীও আহত হন। উত্তমকে উদ্ধার করে প্রথমে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখানে তার শরীরে কয়েকদফা অস্ত্রোপাচার হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখনো তিনি আশঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এদিকে, ছাত্রলীগ নেতা উত্তম উত্তম কুমার দাসের ওপর হামলার ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও রাজনীতি অধ্যয়ন বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র জাবেদ আহমদকে আটক করেছে পুলিশ।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের জালালাবাদ থানার ওসি আখতার হোসেন জানান, ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় ইউনিভার্সিটি গেইট সংলগ্ন মেস থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান মাস্টার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী জাবেদকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে বোমা তৈরির গান  পাউডার ও কেমিক্যাল উদ্ধার করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হিমাদ্রী শেখর রায় ইত্তেফাককে বলেন, ক্যাম্পাসে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডেকেছেন। রাস্তায় বিােভ করছেন। বড় ধরনের কোনো অঘটন যাতে না ঘটে, সে জন্য প্রশাসন বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে।