ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট

২০ জনের ১০ দল নিয়ে নতুন জোট এনডিএফ

 
 
ইত্তেফাক রিপোর্ট
‘ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট’ (এনডিএফ) নামে নতুন একটি রাজনৈতিক জোট আত্মপ্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এই জোটের ঘোষণা দেয়া হয়। এর উদ্যোক্তারা জোটের শরিক হিসেবে ১০টি দলের নাম ঘোষণা করেছে। তবে দু-একটি ছাড়া বাকি সবই নাম সর্বস্ব ও ভুঁইফোড় সংগঠন, অজানা-অচেনা এ সব দলের নাম আগে তেমন কেউ শোনেনি। কার্যত সভাপতি বা চেয়ারম্যান এবং মহাসচিব বা সাধারণ সম্পাদক মিলিয়ে ২০ জন লোকের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে এই ১০ দলের ‘ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট’ (এনডিএফ)।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) একাংশের চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু নতুন জোট এনডিএফের চেয়ারম্যান এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) একাংশের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলমগীর মজুমদার এর মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
যে ১০টি দল নিয়ে এই জোট গঠন করা হয়েছে এরমধ্যে এনপিপি, এনডিপি, ইসলামিক পার্টি ও মুসলিম লীগ নামে চারটি দল এখনো বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে রয়েছে। এই চারটি দল থেকে কয়েকজন করে নেতা নিজ নিজ দল থেকে বের হয়ে সবাই একই নামে নতুন দলের ঘোষণা দেন। অর্থাত্, ২০ দলে থাকা এনপিপি, এনডিপি, ইসলামিক পার্টি ও মুসলিম লীগেরই ভগ্নাংশ এরা। এ ছাড়া, নতুন জোটের শরিক ন্যাপ-ভাসানী কয়েক মাস আগে ২০ দল থেকে বেরিয়ে আসে। এর বাইরে অন্য যে পাঁচটি দল মিলে এনডিএফ ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলো অখ্যাত। এনডিএফের শরিক দলগুলোর মধ্যে একমাত্র নিলুর এনপিপি ছাড়া আর কারোই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিবন্ধন নেই। তবে এনপিপির যে নিবন্ধন রয়েছে, সেটিও দাবি করছেন ২০ দলে থাকা এনপিপির অপর অংশের চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ। ড. ফরহাদ ইত্তেফাককে জানান, তিনি যখন অখণ্ড এনপিপির মহাসচিব ছিলেন, তখন দলের নিবন্ধন তার নামেই হয়েছে।
নতুন জোট সম্পর্কে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহামচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, লোভে পড়ে কিছু লোক নিজেদের দল ছেড়ে গেলেও এতে ২০ দলে কোনো প্রভাব পড়েনি। তিনি বলেন, যারা লোভে পড়ে চলে গেছেন তারা আদর্শচ্যুত। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই এরা রাজনীতির মূল স্রোত থেকে বিলীন হয়ে যাবে। 
ঘোষিত এনডিএফের অন্য পাঁচটি শরিক হলো জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল-জাগো দল (মালেক), লেবার পার্টি (সেকান্দর আলী),  ইনসাফ পার্টি (শহীদ চৌধুরী), তৃণমূল ন্যাপ ভাসানী ও ভাসানী ফ্রন্ট (মমতাজ চৌধুরী)। আর ২০ দলভুক্ত দলগুলো থেকে শেখ শওকত হোসেন নিলুর নেতৃত্বে এনপিপি, আলমগীর মজুমদারের নেতৃত্বে এনডিপি, জোবাইদা কাদের ও আতিকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ও আব্দুর রশিদ প্রধানের নেতৃত্বে ইসলামিক পার্টির কিছু লোক বের হয়ে একই নামে নতুন দল ঘোষণা করেন। শেখ আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন ন্যাপ-ভাসানী পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচনের পরপরই ২০ দল থেকে বের হয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে শওকত হোসেন নিলু দাবি করেন, তারা এই জোটকে বিএনপির জোটের বিকল্প মনে করছেন না। কিন্তু তারা দেশ পরিচালনা করতে চান। তাদের এটি নির্বাচনি জোট। তারা তিন শ আসনে প্রার্থী দেবেন। বিএনপির জোট ছাড়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, একদলীয় স্বেচ্ছাচারী মনোভাবের কারণে কেউ জোট ছেড়েছে। বিএনপির অনেক ভুল ছিল। এ সব কারণেও কেউ কেউ জোট ছেড়েছে। নিলু বলেন,  নির্বাচনে অংশ না নিয়ে খালেদা জিয়া গভীরভাবে হতাশ হয়ে পড়েছেন। সে কারণেই তিনি এলোমেলো বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
বিএনপি নেতারা ইতোমধ্যে অভিযোগ করছেন, সরকারের একটি সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতায় ২০ দলীয় জোট থেকে কিছু লোককে বের করে নিয়ে আলাদা জোট করা হচ্ছে। নতুন জোট গঠনে সরকারি সংস্থার হাত থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে নিলু বলেন, ‘এ ধরনের কিছু আমার জানা নেই।’ সংবাদ সম্মেলনে এনডিএফের ঘোষণাপত্র ও কর্মসূচি ঘোষণা করেন জোটের মহাসচিব আলমগীর মজুমদার।
এনডিএফের সংবাদ সম্মেলনে মুসলিম লীগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জোবাইদা কাদের চৌধুরী ও মহাসচিব আতিকুল ইসলাম, ন্যাপ-ভাসানীর চেয়ারম্যান শেখ আনোয়ারু হক ও মহাসচিব হাসরাত খান ভাসানী, জাগো দলের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক চৌধুরী ও মহাসচিব মিজানুর রহমান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান সেকান্দর আলী মনি ও মহাসচিব আখতার হোসেন, ইসলামিক পার্টির একাংশের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এম এ রশীদ প্রধান ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এনায়েত হোসেন, এনডিপির একাংশের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলমগীর মজুমদার ও মহাসচিব আলী নুর মোহাম্মদ খান সাজু, এনপিপির একাংশের মহাসচিব  আব্দুল হাই ম্লল, ভাসানী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান মমতাজ চৌধুরী, ইনসাফ পার্টির শহীদ চৌধুরী, তৃণমূল ন্যাপের চেয়ারম্যান পারভিন নাসের সুলতানা ও সদস্য সচিব হিসেবে পরশ ভাসানীকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়।