রামপুরায় স্বর্ণের বার আত্মসাত্

খিলগাঁও জোনের এসিসহ ৯ পুলিশকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ

 
 
 
 
রামপুরার চেকপোস্ট থেকে তল্লাশীর সময় স্বর্ণের বার আত্মসাত্ করার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলা তদন্তে খিলগাঁও জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) ইকবাল হোসেনসহ পুলিশের ৯ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদকের উপ-পরিচালক যতন কুমার রায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে প্রথমে এসআই আব্দুল মান্নানের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে ডিএমপির গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক মো. ফজলুল হক, কনস্টেবল মো. দেলোয়ার হোসেন, মো. রহিম, খিলগাঁও জোনের এসি ইকবাল হোসেন, এসআই এএনএস নুরুজ্জামান, এসআই মো. মাসুদ মিয়া, রাশেদুল ইসলাম, কেএম মেহেদী হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
দুদক সূত্র জানায়, গত ১৩ মার্চ সোর্স রনির তথ্যের ভিত্তিতে এসআই মঞ্জুরুল, কনস্টেবল আকাশ ও ওয়াহেদুল বনশ্রী এলাকা থেকে একটি প্রাইভেটকার জব্দ করেন। এ সময় প্রাইভেটকারের আরোহীরা পালিয়ে যান। গাড়ি তল্লাশি করে ২৩৫টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়। কিন্তু পুলিশ দল স্বর্ণগুলো জমা না দিয়ে নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নেন। বিষয়টি গণমাধ্যমে জানাজানি হলে রামপুরা থানার পুলিশ কর্মকর্তারা বিপাকে পড়েন। পরে ১৬ মার্চ কৌশলে প্রাইভেটকারের সিটের মধ্যে ৭০টি স্বর্ণের বার লুকিয়ে রেখে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তা উদ্ধারের নাটক সাজান। পরে প্রাইভেট কারটির চালক সমীর বিশ্বাস এবং স্বর্ণের বাহক জাহিদ হোসেন ওরফে মাহিনকে আটক করে দুইদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। দুই দিনের রিমান্ডের পর মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে মাহিন জানান, তারা ২৩৫টি স্বর্ণের বার নিয়ে বনশ্রী এলাকা থেকে পুরান ঢাকার তাঁতী বাজার এলাকায় যাচ্ছিলেন। এ সময় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে তারা গাড়িটি ফেলে পালিয়ে যান। এরপর গোষেন্দা পুলিশ অভিযুক্ত ওইসব পুলিশ সদস্যদের আটক করে। পরবর্তীতে দুদকের অনুমতি সাপেক্ষে রামপুরা থানায় গত ৭ এপ্রিল রাতে তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। দুদকের কর্মকর্তা এমএ রশিদ মামলাটি ঢাকার সিএমএম আদালতে উপস্থাপন করলে, আদালত তা দুদককে তদন্তে নির্দেশ দেন। গত ৮ এপ্রিল দেওয়া ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আশিকুর রহমানের নির্দেশে দুদক এখন তদন্ত করছে।