জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা এক শিক্ষার্থীকে পেটানোর অভিযোগ এসেছে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। প্রত্যক্ষদর্শী ছাত্ররা জানায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ওই ভর্তিচ্ছুকে মারধর করা হয়। ‘ই’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা সোহাগ আলীকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ক্যাম্ব্রিয়ান কলেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এই শিক্ষার্থী প্রক্টরের মাধ্যমে উপাচার্য বরাবর লিখিত একটি অভিযোগও দিয়েছে। প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেব।”
সোহাগ লিখিত অভিযোগে বলেছেন, “আমি পরীক্ষা শেষে চায়ের দোকানে চা খেতে আসি। এ সময় এক আপু আমার দিকে তাকিয়ে হাসেন, আমিও তখন তার দিকে তাকিয়ে হাসি। এরপরই কয়েকজন ছাত্র আমাকে রড ও লাঠি দিয়ে দু’দফায় মারধর করে এবং সবার সামনে কান ধরিয়ে উঠ-বস করায়।”
ভর্তিচ্ছু ওই শিক্ষার্থী হামলাকারী হিসেবে জার্নালিজম বিভাগের তৃতীয় বর্ষের আব্দুর রহীম জুয়েল, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের বনি খান, আন্তর্জাতিক সর্ম্পক বিভাগের তৃতীয় বর্ষের তাপস চন্দ্র মজুমদার ও রিফাত, পরিসংখ্যান বিভাগের সুব্রত সাহা এবং ভূতাত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের আদনান সৌমের নাম দিয়েছেন। এরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সানোয়ার হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে ছাত্রলীগের উপ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জুয়েল চাঁদাবাজির অভিযোগে সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সানোয়ার হোসেন বলেন,“ওই ছেলেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রীকে ইভটিজিং করেছিল। কেউ যদি আমার বোন বা বান্ধবীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করে, তাহলে তো আর আমরা বসে থাকতে পারি না।”