আ.লীগ–সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে জাল ভোট

বৃহস্পতিবার শেরপুর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে ৪২টি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীর লোকজন কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টি (এরশাদ) সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. ইলিয়াছ উদ্দিন ও বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী মো. সিরাজুল ইসলাম।

বেলা তিনটার দিকে সদর উপজেলার লছমনপুর ইউনিয়নের জমসেদ আলী মেমোরিয়াল কলেজ কেন্দ্রে সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ করেন ওই দুই প্রার্থী। ইলিয়াছ উদ্দিন অভিযোগ করেন, প্রশাসন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছে। বারবার অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি। সেখানে উপস্থিত বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থী সিরাজুল ইসলামও একই অভিযোগ করেন।
নির্বাচন চলাকালে বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল খুব কম। এরপরও বেলা আড়াইটা পর্যন্ত শেরপুর পৌর এলাকার অধিকাংশ কেন্দ্রে ৬০ শতাংশের বেশি ভোট পড়ে। জমসেদ আলী মেমোরিয়াল কলেজ কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীর এজেন্টরা প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কক্ষে প্রবেশ করে পাঁচটি ব্যালট বই নিয়ে জোর করে সিল মারেন। পরে তা ব্যালট বাক্সে ঢোকানোর সময় জাপা-সমর্থিত প্রার্থী ইলিয়াছ উদ্দিন হাতেনাতে ধরে ফেলেন। খবর পেয়ে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবা শারমিন এবং সেনা ও বিজিবির সদস্যরা ওই কেন্দ্রে যান। এ সময় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ওই পাঁচটি ব্যালট বই বাতিল করেন। ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. মোখলেসুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ইলিয়াছ উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, উপজেলার ৪২টি কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের প্রার্থীসহ দলটির নেতা-কর্মীরা কেন্দ্রে প্রবেশ করে তাঁর (ইলিয়াছ) এজেন্টদের ভোটকক্ষ থেকে বের করে দেন এবং জোর করে ব্যালট পেপার নিয়ে সিল মারেন। অনেক ভোটার ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দিতে না পেরে ফিরে যান।
বিএনপি-সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, এখানে নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়নি। প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশ করে নির্বাচন কর্মকর্তারা আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। কসবা মোল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন সাতটি ব্যালট পেপার বাতিল করার কথা স্বীকার করেছেন।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. হায়দার আলীর ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।