মতলব দক্ষিণ ও কমলগঞ্জে নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ ও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। মতলব দক্ষিণে গত ১৫ দিনে আড়াই শতাধিক এবং কমলগঞ্জে ১১ দিনে অর্ধশতাধিক শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ১০ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এখানে ভর্তি হয়েছে ১০৪টি শিশু। কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে আরও শতাধিক শিশু। এর মধ্যে দেড় শতাধিক শিশুর বয়স তিন বছরের মধ্যে। বাকিরা তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সী। প্রতিদিন গড়ে ভর্তি হয়েছে প্রায় সাতজন। বহির্বিভাগে প্রতিদিন চিকিৎসা নিয়েছে গড়ে আটজন। এ সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের প্রায় চার গুণ।
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) মতলব কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, এখানে ১০-২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬২ জন শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে। এ সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের দ্বিগুণ।
গতকাল বেলা ১১টায় সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশু ওয়ার্ডের প্রতিটি কক্ষে দু-তিনজন করে নিউমোনিয়া রোগী। উপজেলার বাকরা গ্রামের এক বছরের শিশু মোস্তাফিজে মা সালমা খাতুন বলেন, তাঁর ছেলের নিউমোনিয়া হয়েছে।দুদিন আগে তিনি ছেলেকে ভর্তি করিয়েছেন। তার অবস্থা উন্নতির দিকে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ কে এম মাহাবুবুর রহমান বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে ঠান্ডা লাগায় এবং স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার কারণে এত শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। নিউমোনিয়া থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য রাতের বেলা ঠান্ডা পড়লে শিশুদের গরম কাপড় পরাতে হবে। এ ছাড়া শিশুদের যাতে ঠান্ডা না লাগে, সে ব্যাপারে মায়েদের সতর্ক থাকতে হবে।
কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, কমলগঞ্জে ১৩ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১১ দিনে ৫০টি শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা সুশান্ত দাস আকস্মিকভাবে শিশুদের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আক্রান্ত যেসব শিশু এখানে এসেছে, তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।