যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার মুখেও সিরিয়ায় আইএস অনড়

 
 
 
 
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার মুখেও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের অগ্রযাত্রা থেমে নেই। এরই মধ্যে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে সম্মুখযুদ্ধের চ্যালেঞ্জ দিয়েছে। এ দিকে, আইএসের চেয়ে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে বড় সমস্যা বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের আমির শাইখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। খবর আল-জাজিরা, বিবিস ও রয়টার্সের।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা সত্ত্বেও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের অগ্রযাত্রা  অব্যাহত রয়েছে। কুর্দি একটি এলাকায় তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছে আইএস জঙ্গিরা। ওই এলাকা থেকে পালাতে থাকা শরণার্থীরা জানিয়েছে, গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে এবং বন্দিদের শিরশ্ছেদ করা হচ্ছে। সিরিয়ার কুর্দিরা বলেছে, সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে তুরস্ক সীমান্তের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব দিয়েছে আইএস। ওই এলাকা থেকে পালিয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার বেসামরিক নাগরিক। উত্তরাঞ্চলীয় কোবানি শহরে আইএস জঙ্গিদের অগ্রযাত্রা বাড়তে থাকায় তাদের পরাজিত করা যে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দুরূহ, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এ দিকে, জাতিসংঘে এক বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে একযোগে লড়াই করতে বিশ্বকে আহ্বান জানিয়েছেন এবং তাদের ওপর সামরিক চাপ বজায় রাখার অঙ্গীকার করেছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ৪০ মিনিটের বক্তব্যে ওবামা বলেছেন, হত্যাকারীরা কেবল একটি ভাষাই বোঝে আর তা হলো শক্তি। সুতরাং, যুক্তরাষ্ট্র জঙ্গিদের ‘হত্যার নেটওয়ার্ক’ গুঁড়িয়ে দিতে বৃহত্তর জোটের সঙ্গে কাজ করে যাবে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক বাহিনীকে সম্মুখযুদ্ধে মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ দেয় জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট। আইএসের মুখপাত্র শাইখ আবু মোহাম্মদ আল আদনানি সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানান, তাদের যোদ্ধারা ইরাক ও সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনীকে স্থল অভিযানে মোকাবিলা করতে প্রস্তত। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্র্রতিক বিমান হামলা এবং আইএসের বিরুদ্ধে আরব দেশগুলোর সমন্বয়ে জোট প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টাকে ব্যঙ্গ করেন তিনি। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে উদ্দেশ্যে করে তিনি বলেন, ‘প্রচারণা চালিয়ে এতটুকুই করতে পার তোমরা? আমেরিকা ও তার সঙ্গীরা কি স্থলপথে আসতে অক্ষম?’
 
বিবৃতিতে ইরাকি সেনা ও কুর্দিদের কাছে পশ্চিমা দেশগুলোর অস্ত্র সরবরাহ নিয়েও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে বলা হয়, ‘তোমাদের দালাল ও কুকুরদের কাছে আরো বেশি অস্ত্র পাঠাও। যুদ্ধে পাওয়া পণ্য হিসেবে তা আবার আমাদের হাতেই আসবে। তোমাদের সাঁজোয়া যান, মেশিনারিজ এবং যুদ্ধাস্ত্রগুলো দেখ। এগুলো এখন আমাদের হাতে। আল্লাহ আমাদের জন্য এগুলো ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এ সব দিয়ে এখন আমরা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি।’ আইএসের ওই মুখপাত্র আরো বলেন, ‘তোমাদের সন্তানদের যখন আমাদের বিরুদ্ধে পাঠাবে, তখন এর চড়া মূল্য নিয়ে যাবে তারা। তারা পঙ্গু, লাশ কিংবা মানসিক রোগী হয়ে দেশে ফিরবে।’
 
উল্লেখ্য, গত মাস থেকে ইরাকে আইএসের অবস্থানে বিমান হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। আর গত সোমবার আরব অঞ্চলের পাঁচটি দেশের সমর্থন নিয়ে সিরিয়ায় আইএস জঙ্গিদের দখলকৃত অঞ্চলে বিমান হামলা শুরু হয়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান ও বাহরাইন ওই অভিযানে প্রত্যক্ষ সামরিক সহায়তা দিচ্ছে।
 
এ দিকে, ইসলামিক স্টেটের পাশাপাশি সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ প্রশাসনের বিরুদ্ধেও জোরালো পদক্ষেপ নিতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন কাতারের আমির শাইখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণে এই অঞ্চলে আইএসের চেয়েও আসাদ বড় সমস্যা বলে মন্তব্য করেন তিনি।
 
থানি বলেন, হামলা চালিয়ে আইএসকে দুর্বল করে দিলে তা মূলত আসাদ প্রশাসনের পক্ষেই যায়। কারণ, আসাদের কাছ থেকেই সিরিয়ার রাক্কা প্রদেশসহ উত্তরাঞ্চলীয় বড় এলাকার দখল নিয়েছিল আইএস জঙ্গিরা। ‘যুক্তরাষ্ট্রে ওই হামলায় আসাদ সরকার লাভবান হবে’ এমন উদ্বেগ থেকে কাতারের আমির বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত সিরিয়ার মানুষ বুঝতে না পারবে যে, এই লড়াই সিরিয়ার নির্যাতনকারী শাসকের পক্ষে নয় বরং জনগণের পক্ষে হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সন্ত্রাস-বিরোধী এই লড়াইয়ে জয়ী হওয়া যাবে না।
 
কাতারসহ আরব উপসাগরীয় অধিকাংশ দেশই সিরিয়ায় আসাদ সরকারের শাসনের বিরোধী। কাতার আইএস জঙ্গিদের বিভিন্নভাবে অর্থ জোগান দিয়ে থাকে বলে অন্যান্য আরব রাষ্ট্রগুলোর অভিযোগ। তবে ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের সহায়তা করা হচ্ছে না বলে বুধবার পশ্চিমা দেশগুলোকে নিশ্চিত করে কাতার।