ঢাবি ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি

ছাত্রলীগ নেতার কক্ষ সিলগালা, আটক-২

 
 
 
 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির সাথে জড়িত ছাত্রলীগ নেতা ও সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক লেলিনের কক্ষ সিলগালা করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একইসাথে ঐ কক্ষ থেকে দুই বহিরাগতকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে কর্তৃপক্ষ।
গত শুক্রবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ২২১ নম্বর কক্ষ সিলগালা করা হয়। ঐ কক্ষে লেলিন অবৈধভাবে অবস্থান করতেন।
হল অফিস ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, শুক্রবার গভীর রাতে কক্ষটি সিলগালা করে দেন হল প্রভোস্ট অধ্যাপক বায়াতুল্লাহ কাদেরী। এ সময় লেলিনের রুম থেকে বহিরাগত দুইজনকে আটক করে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। আটককৃতরা হলে ব্যাংক এশিয়া তোপখানা রোড শাখার কর্মকর্তা ইফতেখার হোসেন সজিব এবং বনানীর ক্লাসিক হোম টেক অফিসের কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন। লেলিন দুইজনকে নিয়ে ঐ কক্ষে থাকতেন। তার কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য কয়েকজন ছাত্রের বরাদ্দ থাকলেও তারা কক্ষে থাকতে পারত না।
সরেজমিনে দেখা যায়, লেলিনের রুমটি হলের অন্য রুমের চেয়ে আলাদা। হলের প্রতিটি রুমে চেয়ার-টেবিল-খাট থাকলেও তার রুমে ছিল দামি দামি ও বিলাসবহুল আসবাবপত্র। আছে একটি বড় টিভি, দামী ল্যাপটপ, উন্নতমানের জাজিম, মূল্যবান সাজসজ্জা,একটি ওয়ারড্রপ, একটি ড্রেসিং টেবিল, একটি বক্স খাটসহ মূল্যবান আসবাবপত্র।
জানা যায়, লেলিন বিশ্ববিদ্যলয়ের ০৭-০৮ বর্ষের দর্শন বিভাগের ছাত্র। পড়াশোনা শেষ হয়েছে প্রায় দেড় বছর আগে। তারপরেও সে হলের ২২১ নম্বর কক্ষে থেকে অপরাধ কর্মকান্ড পরিচালনা করত। তার কক্ষে মদ ও জুয়ার আড্ডা বসতো। হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এক রুমে ৮-১০জন থাকলেও ওই নেতা ৩-৪জন বহিরাগত নিয়ে একাই থাকতেন।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও র্যাবের হাতে পরীক্ষায় জালিয়াতির সাথে জড়িত আটক ৩৯ জনের বিরূদ্ধে মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা এইচএম কামরুল আহসান জানান, শুক্রবার রাত থেকে আটককৃতদের বিরূদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করা হচ্ছে। মামলার সংখ্যা বেশী হওয়াতে সব মামলা করতে একটু সময় লেগেছে। 
এছাড়া লেলিনের এই জালিয়াত চক্রের সাথে তার হলেরই আরো কয়েকজন জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। এদের মধ্যে একই হলের কামরুল(ইংরেজি, মাস্টার্স) এবং আবরারের (মার্কেটিং, ৩য় বর্ষ) সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। 

হল প্রভোস্ট অধ্যাপক বায়তুল্লাহ কাদেরী বলেন, জালিয়াত চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে লেলিনকের্যাব আটক করেছে। এজন্য শুক্রবার রাতে তার রুম সিলগালা করা হয়েছে এবং সে পরবর্তীতে হলে উঠতে পারবে না। সে অবৈধ ছাত্র।