কেরানীগঞ্জের বহুল আলোচিত চার খুনের ঘটনায় শনিবার সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন জাকারিয়া হোসেন ওরফে জনি। অপরদিকে গ্রেফতারকৃকত অপর ৬ আসামিকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে।
হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয়া অপর তিন আসামিদের মধ্যে একজনের অবস্থান সম্পর্কে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তার নাম বলতে অপারগা জানিয়ে বলেছেন, আশা করা যায় রাতের ( শনিবার) মধ্যেই তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।
আদালত সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে জনি জানিয়েছে তার স্ত্রীর সঙ্গে অবৈধ সর্ম্পক ও ডাকাতির করা মালামাল ভাগবাটোয়ারার বিরোধের জের ধরে ট্রাক চালক সাজু, তার স্ত্রী ও তাদের দু’ই সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পাশাপাশি জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের কারা কারা জড়িত ছিল ও এবং কীভাবে হত্যাকাণ্ড সংঘঠিত করেছে তারও বর্ননা দিয়েছে জনি।
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, শনিবার বিকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান গ্রেফতারকৃত জনিসহ সাত জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠায়। আদালতে নেয়ার পর জনি নিজেই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজী হয়। এরপর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের খাস কামড়ায় জনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবাবনন্দি দেয়। রাত আটটার দিতে জবানবন্দি শেষে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর দিকে শুনানি শেষে আদালত অপর ছয় আসামিকে জিজ্ঞাসবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ডে মঞ্জুর করেন।
গত ২৪ সেপ্টম্বর বুধবার সকাল ১১টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাপুর কালাকান্দি এলাকার একটি ছয় তলা ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ অজ্ঞাত হিসেবে ট্রাক চালক সাজু, তার স্ত্রী রঞ্জি, ছেলে ইমরান ও মেয়ে সানজিদার শিশুর হাত-পা বাধা লাশ উদ্ধার করে। পরের দিন লাশ সনাক্ত করেন নিহত সাজুর বড় ভাই বশিরউদ্দিন। তিনি (বশির উদ্দিন) অজ্ঞাত কয়েকজন আসামি করে পরের দিন ২৫ সেপ্টম্বর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন।