প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রে তার আট দিনের সরকারি সফর শেষে সকালে মার্কিন এক বিমানে লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীকে বহন করা ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় সকাল ৭ টা ১৫ মিনিটে জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর ত্যাগ করে। তিনি দু’দিন লন্ডনে অবস্থানের পর ২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দেশে ফিরবেন।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন ও জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আবদুল মোমেন এবং ব্যাপকসংখ্যক প্রবাসী জন এফ কেনেডি বিমান বন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।
শেখ হাসিনা জাতিসংঘের ৬৯তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক পৌঁছেন এবং ২৭ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। তিনি তাঁর ভাষণে অস্থিতিশীল বিশ্ব নিরাপত্তা, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় জঙ্গীবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের উত্থানে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিশ্ব শান্তির অভিভাবক হিসেবে জাতিসংঘকে মুখ্য ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশ ও জাতিসমূহের অসাম্প্রদায়িক সম্পর্ক বিনষ্টকারী শক্তিগুলোকে নির্মূল করার প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ফার্স্ট লেডী মিশেল ওবামা আয়োজিত সম্বর্ধনায় যোগ দেন। তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের দেয়া মধ্যাহ্নভোজ সম্বর্ধনায় যোগ দেন।
শেখ হাসিনা জলবায়ু সম্মেলন ২০১৪’র উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেন এবং সম্মেলনের ‘ন্যাশনাল এ্যাকশন এ্যান্ড এ্যাম্বিশন এ্যানাউন্সমেন্ট সেশনে বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি গ্লোবাল এ্যাডুকেশন ফার্স্ট ইনিসিয়েটিভ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের এক আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন।
শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে নতুন বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করতে তাদের সহায়তা কামনা করেন। বৈঠকে তিনি বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য নেয়া তাঁর সরকারের আর্থিক নীতি ও প্রণোদনার কথাও উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দপ্তরে কমনওয়েলথ সরকার প্রধানদের বৈঠক এবং আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কর্মসূচির সম্মেলনে যোগ দেন।
তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে যোগ দেন। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনসহ জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারী জেনারেল আমিরা হক, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক এ্যাসিস্টেন্ট সেক্রেটারী নিশা দেশাই বিশাল, রাশিয়ার ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গেন্নাদি গাতিলভ, যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত পিটার ওয়েস্টমাকট, ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিনোদ কুমার ইউএনডিপির এ্যাডমিনিস্টেটর হেলেন ক্লার্ক ও ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বুকোভা এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
তারা বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার পাশাপাশি দেশের ব্যাপক উন্নয়নে অনন্য ভূমিকার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তারা সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সহাস্রাব্দ লক্ষ্য মাত্রা অর্জনেও শেখ হাসিনার প্রশংসা করেন।
তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইরনা সোলবার্গ, বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী মিখাইল ভি ম্যাসনিকোভিচ ও নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালার সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া তিনি প্রবাসী বাংলাদেশীদের দেয়া এক সম্বর্ধনায় যোগ দেন। খবর বাসস।