দশভুজা শারদা পটের ঐশ্বর্য নিয়ে অধিষ্ঠান করছেন মণ্ডপে মণ্ডপে। দিগন্তে কাশফুলের মেলা,নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর প্রভাতে হিমের পরশের ভিতর শুরু হলো বিল্বমঙ্গল। শুরু হলো হিন্দু সমপ্রদায়ের সবচে’ বড় ধর্মীয় উত্সব শারদীয় দুর্গোত্সব। আজ মহাষষ্ঠী। পুরোহিতদের জলদকণ্ঠ মন্ত্রোচ্চারণের ভিতর দুর্গা পিতৃগৃহে আসলেন কৈলাশ ছেড়ে।
বিশুদ্ধ পঞ্জিকামতে আজ পূর্বাহ্ন ৯-৫৭ মধ্যে ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভ, সায়ংকালে দেবীর বোধন আমন্ত্রণ ও অধিবাস। গতকাল সন্ধ্যা ৭-১০ মিনিট ৩৫ সেকেন্ডের পর ষষ্ঠী তিথির সূচনা ঘটে। আজ রাত ৮-২৩ মিনিট ৪৫ সেকেন্ড অব্দি তিথি থাকবে। তারপর শুরু হবে মহাসপ্তমী তিথি। কাল মহাসপ্তমীর প্রভাতে ঢাক-ঢোলক-কাঁসর বাজিয়ে কলাবউ স্নান ও আদরিণী উমার সপরিবারে তিথি বিহিত পূজা। পূর্বাহ্ন ৯-৫৮’র মধ্যে নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপন, দেবীর মহাসপ্তমী বিহিত পূজা আরম্ভ, সন্ধ্যা ৬-৩১ আরতি প্রতিযোগিতা।
শিল্পী-কারিগররা এ বছর বানিয়েছেন দু’ধরনের মৃত্তিকা প্রতিমা। এর মধ্যে ‘অজন্তা’ ধাঁচের মূর্তি যেগুলো ওরিয়েন্টাল প্রতিমা হিসেবে পরিচিত। আবার চিরায়ত বাঙালী নারীর রূপের প্রতিমাও আছে। মৃিশল্পীরা জানান, অজন্তা ধাঁচের মূর্তির চাহিদা এখন বেশি। এ ধরনের মূর্তিতে শাড়ি, অলংকার ও অঙ্গসজ্জা সবই করা হয় মাটি ও রঙ দিয়ে। বাংলা প্রতিমায় শাড়ি, অলংকার, সাজসজ্জার উপকরণ-উপাচার আলাদাভাবে কিনে নিতে হয় বলে অজন্তা’র চাহিদা বেশি।
পূজা উপলক্ষে গতকাল ঢাকেশ্বরী মন্দির মিলনায়তনে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি এক মতবিনিময় সভায় বলেছেন, দেশের বিভিন্নস্থানে প্রতিমা ভাংচুর হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১৩ জেলায় হামলা ও ভাংচুর হয়েছে। পূজা বিঘ্নিত করতে ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে শংকা তৈরির জন্য অশুভ মহল তত্পর হয়ে উঠেছে। তারা বলেন, শৃংখলার স্বার্থে এবার আমরা কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তা হলো-রাত দশটার পর পিএ সেটে শুধু ধর্মীয় গান বাজবে। আজান ও নামাজের সময় পিএ সেট, মাইক সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। ৪ অক্টোবর বিসর্জন অনুষ্ঠিত হবে। লিখিত বক্তব্য দেন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ সাহা মনি। এছাড়া সভাপতি কাজল দেবনাথ, জেএল ভৌমিক, স্বপন কুমার সাহা,নির্মল চ্যাটার্জী উপস্থিত ছিলেন।
দুর্গোত্সব উপলক্ষে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।