বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ভোগ করা ৩২ বাংলাদেশি নাগরিককে হস্তান্তর করেছে মিয়ানমারের অভিবাসন বিভাগ। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় মংডুতে বিজিবি ও মিয়ানমার অভিবাসন বিভাগের ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে বৈঠক শেষে তাদের ফেরত দেয়া হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার মংডু শহরে সকাল ১০ টায় ৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের একটি অতিরিক্ত পরিচালক ও অপস অফিসার মেজর মো. নাজমুস সাদাত নেতৃত্বে সাত সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ও মিয়ানমার মংডুস্থ অভিবাসন বিভাগের ডেপুটি পরিচালক ইউ থোনথোনের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দলের মধ্যে আড়াই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে মিয়ানমার অভিবাসন বিভাগ ৩২ বাংলাদেশি নাগরিককে হস্তান্তর করে। ফেরত আসা বাংলাদেশি নাগরিকদের পরিবারের নিকট হস্তান্তরের জন্য বিজিবি টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিজিবি আরো জানায়, ফেরতকৃতদের মধ্যে টেকনাফ উপজেলার ১৫ জন, ককক্সবাজার সদরের ছয়জন, চকরিয়ার তিনজন, চট্টগ্রামের ছয়জন ও বগুড়ার দুইজন ব্যক্তি রয়েছে।
২৭ মাস সাজা ভোগ করে ফেরত আসা মো জাবের আলম জানান, টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া সংলগ্ন নাফনদে মাছ শিকারের সময় ঝড়ের কবলে পড়লে ছয়জন জেলেসহ নৌকাটি মিয়ানমার জলসীমানা অতিক্রম করলে ঐ সময়ের নাসাকা বাহিনী তাদের ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়। এর আগে দুইজন জেলে ফেরত আসে। আরো তিনজন সেখানে আটক আছে।
সাদ্দাম হোসেন জানান, ২০১১ সালে মানবপাচার চক্রে খপ্পরে পড়ে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাড়ি দিতে গিয়ে ৯৬ যাত্রীসহ ট্রলারটি বিকল হয়ে পড়ে। চারদিন সাগরে ভাসমান থেকে মিয়ানমার জলসীমানা থেকে নৌবাহিনীর জাহাজ আটক করে নিয়ে যায়। পরে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়।
এ ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোক্তার হোসেন জানান, মিয়ানমারে কারাগারে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ভোগ করে আসা ৩২ বাংলাদেশিকে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে টেকনাফ ৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আবু জার আল জাহিদ জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে অনুমোদনপ্রাপ্ত তালিকায় মিয়ানমার সাজা শেষে ৩২ বাংলাদেশিকে ফেরত আনা হয়েছে। মিয়ানমার কারাগারে থাকা আরো বাংলাদেশিদের ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে।