রেলওয়ে নিয়োগ দুর্নীতি মামলা

মৃধার অব্যাহতি, রেলের ৩২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

 
 
 
রেলওয়ে নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে কর্মকর্তাসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে আবারো চট্টগ্রাম পূর্বাঞ্চলের সাবেক মহাব্যবস্থাপক ইউসুফ আলী মৃধাকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে দুদকের পাঁচটি মামলা থেকে ইউসুফ আলী মৃধাকে অব্যাহতি দিল কমিশন। সমপ্রতি কমিশন বৈঠকে ওই চার্জশিট দাখিলের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়। রেলওয়ে নিয়োগ দুর্নীতির এ মামলাটি ২০১২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় (মামলা নম্বর ৩৩) দায়ের করা হয়েছিল। দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুর রেজা অভিযোগটি অনুসন্ধান ও তদন্ত করেন।
কমিশনের অনুমোদিত চার্জশিটে যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের সিআরবি চট্টগ্রামের সিনিয়র ওয়েল ফেয়ার অফিসার (সাময়িক বরখাস্তকৃত) গোলাম কিবরিয়া, অতিরিক্ত প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী, চট্টগ্রাম সিজিপি ওয়াই লোকো শেডের সহকারী লোকোমাস্টার (এএলএম) গ্রেড-২ মো. গোলাম রহমান, ঢাকা লোকো শেডের সহকারী লোকোমাস্টার নাজমুল হোসেন, কুলাউড়া শেডের সহকারী লোকোমাস্টার রতন মলি সিংহ, দেওয়ানগঞ্জের সহকারী লোকোমাস্টার মো. শহিদুল ইসলাম, ময়মনসিংহে কেওয়াটবালীর সহকারী লোকোমাস্টার মিজানুর রহমান, লাকসাম চট্টগ্রামের সহকারী লোকোমাস্টার মো. মুহিদ, চট্টগ্রামের পাহাড়তলী লোকো শেডের মাস্টার মো. দিদার হোসেন, সহকারী লোকোমাস্টার মো. জসিম উদ্দিন, রেহেনা আবেদীন, খুরশিদা আকতার, কুলসুম আক্তার, মো. শাহাদাত হোসেন, মোহাম্মদ আফতাব উদ্দীন, শাহাদাত হোসেন, রাজশাহী কন্ট্রোল অফিসের সহকারী লোকোমাস্টার জি এম শাহ আলম, দিনাজপুর পার্বতীপুর লোকোমাস্টার নাজরিন আক্তার, সহকারী লোকোমাস্টার মো. শাহীন রেজা আরিফ, পাবনা ঈশ্বরদী সহকারী লোকোমাস্টার আবু মো. জুবায়ের, লালমনিরহাট লোকো শেডের সহকারী লোকোমাস্টার আবদুল কাদের, খাগড়াছড়ি সরকারী মহিলা কলেজের প্রভাষক (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) মো. আবদুল ওয়াদুদ ভূঞা, হিসাব বিজ্ঞানের প্রভাষক জহিরুল ইসলাম ও একই প্রতিষ্ঠানের পদার্থবিজ্ঞানের প্রভাষক তপন কুমার দাসসহ ৩২ জন।
তবে এ মামলা থেকে যথারীতি অব্যাহতি পেয়েছেন চট্টগ্রাম পূর্বাঞ্চলের সাবেক মহাব্যবস্থাপক ইউসুফ আলী মৃধা। এর আগে ২০১৩ সালের ১৯ অক্টোবর চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা একটি মামলা (মামলা নম্বর ১৯) এবং ২০১৩ সালের ১৭ এপ্রিল দায়ের করা তিন মামলা (মামলা নম্বর ৩৪, ৩৫, ৩৬) থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। প্রতিটি চার্জশিটে ইউসুফ আলী মৃধা সম্পর্কে বলা হয়েছে, তিনি নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন না। তিনি তার দৈনন্দিক কার্যক্রম (রুটিন ওয়ার্ক) হিসেবে শুধু অনুমোদন করেছেন মাত্র। এতে তিনি এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তদন্তকালে এ ধরনের কোনো প্রকার সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

দুদক সূত্র জানায়, বিভাগীয় প্রধানের মতামত ছাড়াই লোকোমাস্টার ও সহকারী লোকোমাস্টার নিয়োগের জন্য পাঁচ সদস্যের কমিটি করা হয়। ওই কমিটি জেলাভিত্তিক উত্তীর্ণ প্রার্থীর তালিকা না করে সব জেলাকে একীভূত করে তালিকা তৈরি করে। ফলে ২৮ জেলা থেকে ৩২ জন প্রার্থী কম নেওয়া হয়েছে। এই ৩২ পদ পূরণ করা হয়েছে ১৯ জেলা থেকে, যা কোনো নিয়ম নয়। প্রার্থীদের উত্তরপত্রে মূল্যায়নকারী শিক্ষকের সই ছিল না। অকৃতকার্য প্রার্থীর উত্তরপত্রে কাটাকাটি করে ২০ বা এর বেশি নম্বর বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১০ নম্বর গ্রেস দিয়ে ৩৯ জনের মধ্যে ২৪ জনকে মৌখিক পরীক্ষায় পাস দেখিয়ে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে। একইভাবে ৩৮ জন প্রার্থীকে গ্রেস না দিয়ে মৌখিক পরীক্ষায় কম নম্বর দিয়ে বাদ দেওয়া হয়েছে। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ওই সব অনিয়ম করেছে বলে দুদেকর তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। তাই দন্ডবিধির ১৬৬/১৬৭/৪২০/৪৭৭(ক)/১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় নিয়োগ পাওয়া ও নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।