চাকিং নিয়ে আইসিসির সময় নির্বাচন নিয়েই প্রশ্ন ওয়াকারের

 বিশ্বকাপ ক্রিকেটরে বাকি আর বেশি নেই। আগামী বছর নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে ক্রিকেটের সর্ববৃহৎ আসর আইসিসি বিশ্বকাপ।  এই সময়টিতেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) মাঠে নেমেছে বোলারদের বোলিংয়ে ত্রুটি সনাক্তকরনের কাজ নিয়ে। এরকম একটি গুরুত্বপুর্ন মুহূর্তকে আইসিসির পছন্দ করাকেই সন্দেহের চোখে দেখছেন পাকিস্তানের ক্রিকেট কোচ ওয়াকার ইউনুস। আইসিসির সময় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বলেছেন স্পিনারদের ক্ষেত্রে বোলিংয়ের নিয়ম কিছুটা শিথিল করতে। 
বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভারতে চলমান চ্যাম্পিয়ন্স ক্রিকেট লীগে তাদের শীর্ষ অল রাউন্ডার মোহাম্মদ হাফিজের বোলিংকে সন্দেহের চোখে দেখার ফলে তার আত্মবিশ্বাসে বিঘ্ন ঘটছে। পাকিস্তান দল নতুন করে বিপাকে পড়েছে চাকিংয়ের অভিযোগে নিষিদ্ধ হওয়া সাঈদ আজমলকে হারিয়ে।
আগামী ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ওয়ানডে বোলার আজমল। অথচ হাত বাঁকানোর মাত্রা ৪৩ ডিগ্রিতে পৌছে যাবার অভিযোগে চলতি মাসের শুরুতে নিষিদ্ধ করা হয় তাকে। সর্বশেষ সুনিল নারিনকেও একই অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। 
এ বিষয়ে সরাসরি ব্যবস্থা নেয়ার এখতিয়ার আইসিসির নেই উল্লেখ করে ওয়াকার বলেন, তথাপি তারা প্রখর পর্যবেক্ষনের মধ্যে রয়েছেন। সাবেক এই কিংবদন্তী পেসার প্রশ্ন রেখে বলেন,‘ এটা কি শিষ্টাচার ও প্রযুক্তি বাস্তবায়নের সঠিক সময়? এটি এই কারণে জিজ্ঞেস করছি কারণ, বিশ্বকাপে প্রতিটি দলেরই কিছু পরিকল্পনা থাকে। এই নিষেধাজ্ঞা দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাদের দলগুলোর স্বাভাবিক পরিকল্পনাকে ব্যহত করবে। আমার বক্তব্য হচ্ছে এই শিষ্টাচার বা প্রযুক্তি বিষয়ক কাজগুলো তো বিশ্বকাপ শেষ হবার পরও করা যেত।’ 
ওয়াইডার ড্রাইভের কারণে আমলাকে নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি। একই ভাবে চলতি বছর জুলাইয়ে নিষেধাজ্ঞার খড়গ ওঠেছে শ্রীলংকান ক্রিকেটার সাচিত্রা সেনানায়েকে ও নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসনের ওপর। 
জিম্বাবুয়ের প্রসপার উৎসেয়ার সঙ্গে অভিযুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ দলের স্পিনার সোহাগ গাজী ও পেসার আল আমিন হোসেন। অভিযোগ ওঠেছে দুসরা বোলিংয়ের বিরুদ্ধেও। ওয়াকারের পরামর্শ, বল ডেলিভারির বিষয়টি যদি আইনসিদ্ধ না হয়, তাহলে আইসিসি তাদের আইনের সংশোধনের মাধ্যমে এর বৈধতা দিতে পারে। 
তিনি বলেন,‘ একজন বোলার যখন দুসরা মারবে, তখণ তার হাতের কুনি নির্দিষ্ট মাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এটি স্বাভাবিক একটি বিষয় এবং আমার মনে হয় এর একটি সামাধান অবশ্যই পাওয়া যাবে।’
তিনি বলেন, সিমীত ওভারের ম্যাচে হাফিজ হচ্ছেন পাকিস্তান দলের গুরুত্বপুর্ন অংশ। অথচ কথিত সন্দেহের কারণে তাকেই দলের বাইরে রাখতে হবে। আমি জানি যে একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তারা অভিযুক্ত হয়েছেন। কিন্তু এতে করে তো আমাদের শীর্ষ একজন খেলোয়াড়ের আত্মবিশাসে চিড় ধরল।’
পাকিস্তান ক্রিকেট নিজ দেশেও চাকিং সমস্যার মোকাবেলা করছে। তাদের ৩০ বোলারের মধ্যে ষোল জনের বিরুদ্ধেই ওঠেছে চাকিংয়ের অভিযোগ। যাদের নিষিদ্ধ করা হয়েছে।