এশিয়ান গেমস হকিতে ওমানের কাছে সপ্তম-অষ্টম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ৩-২ গোলে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। আর এর মাধ্যমে গত আসরের মতই ওমানের পরে অষ্টম স্থানে থেকেই গেমস থেকে বিদায় নিতে হলো বাংলাদেশকে।
গ্রুপ পর্বে উপরের দিকে উঠতে না পেরে উভয় দলই মঙ্গলবার সপ্তম স্থানের জন্যই মাঠে নেমেছিল। আর এ কারনেই ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল উত্তেজনা। প্রথম কোয়ার্টারের ১১ মিনিটে পেনাল্টি কর্ণার থেকে ক্ষিসা পুস্কর মিমো প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ এগিয়ে চললেও কোন দলই গোল পায়নি। তৃতীয় কোয়ার্টারে ওমান আরো বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠে। ৩৩ ও ৩৭ মিনিটে সাবিল হাবিব এবং কাসিম মুসা খালফান পরপর দুটি ফিল্ড গোল করলে ওমান এগিয়ে যায়। চার মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে ওমান হঠাৎ করেই যেন আত্মবিশ্বাস ফিরে পায়। তবে দুই মিনিট পরে পেনাল্টি কর্ণার থেকে কৃষ্ণ কুমার দাস গোল করলে সমতা ফেরানো পাশাপাশি দারুনভাবে ম্যাচে ফিরে আসে বাংলাদেশ। তৃতীয় কোয়ার্টার শেষ হবার ঠিক আগ মুহূর্তে ৪৫ মিনিটে পেনাল্টি কর্ণার থেকে ওমানের পক্ষে জয়সূচক গোলটি করেন খাতার রজব বাশিম। চতুর্থ কোয়ার্টারে বাংলাদেশ গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠলেও ওমানের রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত ২-৩ গোলের পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়।
ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের কোচ নাভিদ আলম বলেছেন, আমরা পরাজিত হয়েছি, এখানে আমার কিছুই বলার নেই। আমরা অনেকগুলো ভুল করেছি যার মাশুল দিতে হয়েছে। একইসাথে বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগও নষ্ট করেছি। তবে দলের লড়াকু মনোভাবে আমি সন্তুষ্ট। খেলোয়াড়রা কঠোর পরিশ্রম করেছে। তারা তাদের সেরাটা দেবার চেষ্টা করেছে। সব মিলিয়ে আমি সন্তুষ্ট।
তিনি আরো বলেন, আমি এর আগে পাকিস্তানের কোচ ছিলাম। এখানে দুই দলের মধ্যে দুটি পার্থক্য রয়েছে। পাকিস্তান এমন একটি দল যাদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক ম্যাচ জয়ের অভিজ্ঞতা আছে। বিপরীতে বাংলাদেশের এমন কোন অর্জণ নেই। দ্বিতীয়ত এখানে আত্মবিশ্বাসের একটি বিষয় আছে। বিশ্বের শক্তিশালী দলগুলোরর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতার কারণে তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস অন্যরকম। যা বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের নেই।
ওমানের কোচ অলিভার মাইকেল কুর্টজও বাংলাদেশকে কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে মেনে নিয়ে ম্যাচ শেষে বলেছেন, ম্যাচটি কঠিন ছিল। বাংলাদেশের বর্তমান দলটি ভাল, এই দলে বেশীরভাগ খেলোয়াড়ই বয়সে তরুন। দলটি বেশ বিপজ্জনক। তাদের বিপক্ষে প্রথম কোয়ার্টারে আমরা ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিলাম। সেই জায়গা থেকে দলকে জয় উপহার দেয়ায় অবশ্যই আমি দারুন সন্তুষ্ট।
বাসস