কৌশলগত সম্পর্ক শক্তিশালী করার ব্যাপারে ঐকমত্য

অবশেষে সেই বহু প্রতীক্ষিত সাক্ষাত্ হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। ২৯ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে ওবামার সঙ্গে নৈশভোজে মিলিত হন এক সময় যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা চেয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়া মোদী। মোদীকে দেখেই ওবামা হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘কেম চো’ (গুজরাটি ভাষায় কেমন আছেন)। জবাবে মোদীও তার কাছে কুশল জানতে চান। একান্ত আলাপচারিতায় একে অপরের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জীবনে বহু মিল খুঁজে পেলেন এই দুই নেতা। আগামী দিনে ভারত-মার্কিন কৌশলগত সম্পর্ক শক্তিশালী করার বিষয়ে একমত হন তারা।

মোদীর সম্মানে আয়োজিত ডিনারে খাবারের বিশাল আয়োজন ছিল।  ছিল কঠিন কঠিন নাম সম্বলিত খাবারের মেন্যু। কিন্তু নবরাত্রির উপোস থাকায় একগ্লাস পানি ছাড়া মোদী কিছুই খাননি। ডিনারের পর নব্বই মিনিটের অনানুষ্ঠানিক খোশগল্পে মেতে ওঠেন দুই নেতা। তারা নিজেদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জীবনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। গতকাল মঙ্গলবার সরকারিভাবে বৈঠক করার সময় নির্ধারিত ছিল দুই রাষ্ট্রপ্রধানের। এরপর যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করার কর্মসূচি রয়েছে।

এর আগে মোদী বলেন, দেশের মানুষ ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করেছে। ভোট পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতি ছেড়ে এবারে সত্যিকারের উন্নয়ন চাইছে তরুণ প্রজন্ম। তিনি আরো বলেন, ভারতীয় মুসলিমদের হাতেই ব্যর্থ হবে আল কায়েদার সন্ত্রাসবাদ। দেশের উন্নয়নে তার সরকার সব প্রতিবেশিদের সঙ্গেই সুসম্পর্ক রক্ষায় আগ্রহী বলেও জানান তিনি। সোমবার ওয়াশিংটনে মোদীর যাওয়ার রাস্তার দু’পাশে ভিড় জমিয়েছিলেন প্রবাসী ভারতীয়রা ছাড়াও অনেক মার্কিনীরা। তাদের অনেককেই মোদীর সম্মানে স্লোগান দিতে শোনা যায়।

বারাক ওবামার সঙ্গে ডিনার ছাড়াও ওয়াশিংটন ডিসির গান্ধী মেমোরিয়ালে যান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাকে ঘিরে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন উপস্থিত অনাবাসী ভারতীয়রা। পুষ্প স্তবক দিয়ে ভারতের জাতির জনকের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মোদী ও তার সঙ্গীরা। ফেসবুকে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ওবামার সঙ্গে ডিনারে মিলিত হবার অভিজ্ঞতা ছিল চমত্কার। আমরা অনেক বিষয় নিয়ে কথা বলেছি। দুই দেশের পারস্পারিক স্বার্থ ছাড়াও বিশ্ব মানবতার কল্যাণ নিয়েও আলাপ হয়েছে আমাদের মধ্যে।