যশোরে ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় এক পুলিশ কনস্টেবলসহ চারজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত হয়েছেন মোট ৫ জন। পুলিশ জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুসহ ৫ জনকে আটক করেছে। বুধবার বিকেলে প্রেসক্লাব যশোরের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
যশোর জেলা বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন জানান, মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্যের প্রতিবাদে বুধবার বিকেলে ২০ দলীয় জোট মুজিব সড়কে প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি গ্রহণ করে। প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। বিকেল ৪টার দিকে কর্মসূচির একপর্যায়ে পুলিশ মানববন্ধন থেকে জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুসহ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করে। এরপর ২০ দলীয় জোট নেতাকর্মীরা পুলিশের গাড়িকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ শর্টগানের গুলি বর্ষণ করে। শুরু হয় দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ। এতে এক পুলিশ কনস্টেবলসহ ৪ জন গুলিবিদ্ধ হন। আহত হন ৫ জন। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে একাত্তর টেলিভিশনের যশোর প্রতিনিধির ক্যামেরা ভেঙ্গে দেয়।
গুলিবিদ্ধরা হলেন— পুলিশ কনস্টেবল মতিয়ার রহমান, বিএনপি কর্মী উপশহর এলাকার রেজাউল ইসলামের ছেলে কামাল, ওয়ার্ড মহিলা দল নেত্রী নীলগঞ্জ তাতীপাড়া এলাকার ইন্তাজ আলীর স্ত্রী সোনালী ও পথচারী পুলেরহাট এলাকার ইমদাদুল হাফিজ। আহত হন মহিলা দল কর্মী রেখা। বিএনপি কর্মী রেখা প্রাথমিক চিকিত্সা নিয়েছেন। অন্য চারজনকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দেলোয়ার হোসেন খোকন আরো জানান, পুলিশ অন্তত ৩০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেছে। এতে তাদের ৩-৪ জন নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কোনো কারণ ছাড়াই পুলিশ তাদের ওপর গুলিবর্ষণ করেছে। একইসাথে বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ তাদের ৮-১০ জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে বলেও খোকন জানান।
যশোরের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রেশমা শারমিন জানিয়েছেন, মানববন্ধন থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা এবং এক পর্যায়ে গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে এক পুলিশ কনস্টেবল গুলিবিদ্ধ হলে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইনামুল হক জানান, মানববন্ধন থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলা করা হলে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। এ সময় পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয় এবং হামলায় ৩ কনস্টেবল আহত হন বলেও ওসি উল্লেখ করেন। পুলিশ বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ ৫ জনকে আটকের কথা স্বীকার করেছে।