আন্তর্জাাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেছেন, বিশ্বায়নের এই যুগে যৌথ পরিবার ব্যবস্থা ভেঙে তৈরি হচ্ছে একক পরিবার। এতে করে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ও দুর্ভোগে পড়ছেন প্রবীণরা। প্রযুক্তি-নির্ভর এ সমাজ ব্যবস্থায় দিন-দিন বাড়ছে নবীন ও প্রবীণ প্রজন্মের মধ্যে মানসিক দূরত্ব। বর্তমানে দেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার ৭.৫ শতাংশ এবং এ সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে তারা এ সব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক পরিচালিত জেরোন্টোলজি ও জেরিয়াট্রিক ওয়েলফেয়ার (এক বছরের স্পেশালাইজড মাস্টার্স প্রোগ্রাম) এবং বাংলাদেশ জেরোন্টোলজিক্যাল অ্যসোসিয়েশন (বিজিএ) এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘বাংলাদেশে বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার শিশু বৃদ্ধির হারের চেয়ে অনেক গুণ বেশি। ফলে, অচিরেই প্রবীণদের মোট সংখ্যা শিশু জনসংখ্যাকে ছাড়িয়ে যাবে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে প্রবীণরাই জনসংখ্যার একটি বড় অংশ হয়ে পড়বে। শুধুম সংখ্যায় এরা দ্রুত বাড়ছে তা-ই নয়, এদের অধিকারগত প্রয়োজন মেটানোর মতো পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রিক সমতা ক্রমেই গভীর সংকট এবং তীব্র চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়ে পড়ছে। বার্ধক্য বাংলাদেশের জন্য এক ভয়াবহ সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
তারা আরো বলেন, দারিদ্র্য, ভূমিহীনতা, সামাজিক আদর্শ ও মূল্যবোধের পরিবর্তন, স্থানান্তর, শিল্পায়ন ও নগরায়ণ, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব, বস্তুতান্ত্রিক চিন্তা-চেতনা, ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবোধ ইত্যাদি কারণে আজ যৌথ পরিবার ব্যবস্থা ভেঙে একক পরিবারে রূপ নিচ্ছে। আর এ পরিবর্তনশীলতার নীরব শিকার হচ্ছে প্রবীণ জনগোষ্ঠী।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এবং বিজিএর সভাপতি ড. এ এস এম আতীকুর রহমান, বিজিএর মহাসচিব ড. মো. রবিউল ইসলাম, ড. মো. হাফিজ উদ্দিন ভূঞা, মাসুদ ইবনে রহমান ও মো. হাসান আলী প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের জেরোন্টোলজি ও জেরিয়াট্রিক ওয়েলফেয়ার প্রোগ্রামের ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ। সভায় বক্তারা অবিলম্বে জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা ২০১৩ বাস্তবায়নের দাবি জানান এবং সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রবীণ কল্যাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।