বিদেশিদের কথা বা সমালোচনায় নয়, নিজেদের প্রয়োজনেই কৃষিতে ভর্তুকি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। তিনি বলেন, কৃষিতে আমাদের ভর্তুকি দেওয়ার সমালোচনা করলেও বিদেশিরা নিজেরাও কৃষিতে ভর্তুকি দেয়।
বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট আয়োজিত ‘ওয়ার্কশপ অন এভিডেন্স-বেজড পলিসি অপশন ফর ফুড অ্যান্ড নিউট্রিশন সিকিউরিটি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, যে সব দেশ কৃষিতে ভর্তুকি দেয়ার বিষয়ে সমালোচনা করে তারা নিজেদের দেশে এ ধরনের ভর্তুকি কোনো না কোনো ভাবে দিয়ে থাকেন। তাই আমরা কৃষি উন্নয়নে কারো পরামর্শ বা সমালোচনার দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে নিজেদের প্রয়োজনে কৃষিতে ভর্তুকি দেব। কৃষিতে ভর্তুকি দেয়ার ফলে দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংস্পর্ণ হয়ে খাদ্য রপ্তানী করতে সমর্থ হচ্ছে। এছাড়া সারের ভর্তুকি দেয়ার ফলে কীটনাশক আমদানী ১৬৮ কোটি টাকা কমেছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার সাথে সাথে প্রাণশক্তি, শ্রমশক্তি ও মেধাশক্তির বিকাশ ঘটছে। তিনি ২০২১ সালে মধ্যে বাংলাদেশ কে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার কথাও বলেন।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম হাঙ্গার প্রোভার্টি (দারিদ্র্য) দূর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, বিভিন্ন দেশে চাল রফতানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কায় চাল রফতানির প্রক্রিয়া চলমান। তিনি এ সময় বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার কথা তুলে ধরেন।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএসএআইডির ভীষণ ডিরেক্টর মিস জাইনা জারুজেলস্কি ও ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর জেনারেল শেঙ্গজেন।
অনুষ্ঠানের কারিগরি সেশনে কৃষি সচিব ড. এস এম নাজমুল ইসলাম, পিপিআরসির চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান, অর্থনৈতিক সম্পদ বিভাগের সচিব মেসবাউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।