‘লতিফকে মন্ত্রিসভায় রাখব না’

 
 
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে কি কি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘তাকে মন্ত্রিসভায় রাখব না।’ কবে ব্যবস্থা নেয়া হবে? এই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি সরকার কিভাবে চলে, সরকার একজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কিভাবে ব্যবস্থা নেবে, সেটা সংবিধানে লেখা আছে। একটু ভালোভাবে পড়ে নিলেই জানতে পারবেন।’
 
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগদানের ওপর শুক্রবার বিকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে ১০ দিনের সফর শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে দেশে ফেরেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
 
তবে লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে কিভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে সে বিষয়ে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি তাকে রিজাইন করতে বললে, তিনি রিজাইন করতে বাধ্য হবেন। না হলে আমার পরামর্শে রাষ্ট্রপতি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।’ এ সময় রাষ্ট্রপতি বাইরে আছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাকে দল থেকে বাদ দেয়ার বিষয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
 
লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্যে সরকার কোনো বিপদে পড়েছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার না বেকায়দায় পড়েছেন লতিফ সিদ্দিকী। কারণ মন্তব্য উনি করেছেন। সরকার কোনো মন্তব্য করেনি। এখানে সরকারের কোনো বিপদ নেই।’
 
গত ২৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি কিন্তু হজ আর তাবলিগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী। আমি জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী।’ হজ সম্পর্কে বলেন, ‘এ হজে যে কত ম্যানপাওয়ার (জনশক্তি) নষ্ট হয়। এই হজের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গেছেন। এদের কোনো কাজ নাই। কোনো প্রডাকশন নাই, শুধু ডিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা বিদেশে দিয়ে আসছে।’
লতিফ সিদ্দিকীর এই বক্তব্য নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই বিক্ষোভ করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় অন্তত দুই ডজন মামলাও হয়েছে। বিএনপিসহ কয়েকটি ইসলামী সংগঠন তাকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে।