চৌদ্দগ্রামে হাসপাতালে নবজাতককে রেখে মা উধাও

 
 
 
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একদিন বয়সী নবজাতক রেখে প্রসূতি মা পালিয়ে গেছে। এনিয়ে শুক্রবার হাসপাতালে আসা রোগী ও আশ-পাশের লোকজনের মাঝে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, এক মহিলা (লাকসাম পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের গোন্তি গ্রামের ফারুকের স্ত্রী শাহিদা আক্তার) ভূয়া পরিচয় দিয়ে শুক্রবার সকালে একদিন বয়সী একটি কন্যা সন্তানকে হাসপাতালে (রেজি-১৪৭৬০/৭) ভর্তি করেন। কিছুক্ষণ পর তিনি ঔষধ আনার কথা বলে নবজাবকটি রেখে পালিয়ে যান। বিকেলে নার্স সাজেদা বাচ্চাটি কুমিল্লায় নিয়ে যাচ্ছি বলে গাড়ি উঠার চেষ্টা করে। এ সময় সাংবাদিকরা উপস্থিত হলে তিনি তড়িঘড়ি হাসপাতালে ঢুকে পড়ে বলেন, ‘বাচ্চাটি কোথাও নিয়ে যাচ্ছি না’। তখন উত্সুক জনতা বাচ্চাটিকে দেখার চেষ্টা করলে প্রসূতি রুমে তালা মেরে রাখা হয়। খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি (তদন্ত) আবদুল্লাহ আল মাহফুজ হাসপাতালে পৌঁছলে আরএমও ডা. মনিরুল ইসলাম চৌধুরী ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন।
সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাচ্চাটি হাসপাতালের প্রসূতি রুমে ছিল। তবে হাসপাতালে আসা
এ ব্যাপারে আরএমও ডা. মনিরুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ‘সকাল বেলায় আমি নিজেই বাচ্চাটি ভর্তি করি। এরপর তার সঙ্গে আসা মহিলাটির কোন খোঁজ পাইনি’।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মজিবুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। তবে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি’।

প্রসঙ্গত, কয়েকমাস আগেও হাসপাতালের নার্সদের সহযোগিতায় একটি বাচ্চা বিক্রি হয়। পত্রিকায় লেখালেখি হলে তদন্ত কমিটি গঠন করে বাচ্চাটি ফিরিয়ে দেয়া হয়। হাসপাতালে নার্সদের একটি চক্র অবৈধ বাচ্চা সহায়তা প্রসবে সহায়তা করে এবং বাচ্চা বিক্রির সাথে জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।