হংকংয়ে সংঘর্ষে জড়িয়েছে গণতন্ত্রপন্থী ও বেইজিংপন্থীরা। শুক্রবার আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে প্রশাসন ও গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সমঝোতা হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রতিবাদে আলোচনা থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দেয় গণতন্ত্রকামীরা।
বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার কয়েকটি স্থানে রাজপথ দখল করে আন্দোলনের বিরোধীরা বিক্ষোভকারীদের তাঁবু তছনছ করে। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে জানানো হয়।
এক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চলার পর সরকার আলোচনার প্র্রস্তাব দিলে তা মেনে নেয়ার ঘোষণা দেন গণতন্ত্রপন্থি অকুপাই মুভমেন্ট নেতারা। অবস্থান শিবিরগুলো থেকেও বিক্ষোভকারীরা ধীরে ধীরে বাড়ি ফিরতে শুরু করেন। তবে আলোচনায় বসার প্রস্তুতির মধ্যেও অনেক বিক্ষোভকারী রাজপথ দখল করে পড়ে থাকায় সহিংসতার আশঙ্কা করা হচ্ছিল বিভিন্ন মহল থেকে।
বিকালে কওলুন উপদ্বীপের মঙ কক জেলায় আন্দোলনের বিরোধীরা বিক্ষোভকারীদের তাঁবু ভেঙ্গে দেয়। দীর্ঘদিনের আন্দোলনে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল স্থানীয় বাসিন্দারাও। তবে পুলিশ এ সময় এগিয়ে এসে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
কাজিওয়ে উপকূলেও সংক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভকারীদের বিভিন্ন ব্যারিকেড সরিয়ে ফেলে। সেখানেও দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। ঘটনার পরই সরকারের সঙ্গে আলোচনার আয়োজন থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন বিক্ষোভের নেতৃত্বে থাকা অকুপাই নেতারা।
তারা বলেন, সরকারকে অবশ্যই অকুপাই মুভমেন্টের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা ঠেকাতে হবে। অন্যথায় সরকারের আলোচনায় বসার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসবে তারা।
গণতন্ত্রপন্থীরা হংকংয়ের চীনপন্থী প্রধান নির্বাহী সি লেয়ুঙয়ের পদত্যাগের জন্য বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত সময় বেঁধে দিলেও তা নাকচ করে বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেন তিনি। বিরোধী নেতারা প্রস্তাব মেনে নেয়ার ঘোষণা দেয়ার পরই অনেক আন্দোলনকারী বাড়ি ফিরতে শুরু করেন।