রংপুরে শুক্রবার সকালে জাতীয় পার্টির (এ) চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের উপস্থিতিতেই দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছে। এ সময় ৩টি মাইক্রোবাস ও ২টি মোটরসাইকেলসহ বেশ কয়েকটি যানবাহন ও দোকানপাট ভাংচুর করা হয়। সংঘর্ষ চলাকালে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা। প্রায় দেড় ঘণ্টা সারাদেশের সঙ্গে রংপুর-দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড়ের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জাতীয় পার্টির (এ) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ পবিত্র ঈদুল আযহা পালন ও দলীয় কোন্দল মেটানোর জন্য ৫ দিনের সফরে রংপুরে এলে তাকে অভ্যর্থনা জানাতে গিয়ে দুই গ্রুপের মাঝে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুই গ্রুপের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন সময় বড় ধরনের সহিংস ঘটনার আশংকা করা হচ্ছে। দলীয় কার্যালয়, এরশাদের বাসভবন পল্লী নিবাস ও স্কাইভিউ’এ বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সন্ধ্যার পর এরশাদ জেলা জাতীয় পার্টির (এ) কার্যালয়ে যাবেন বলে প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা জানালেও এ রিপোর্ট পাঠানোর সময় পর্যন্ত এরশাদ সেখানে যাননি। জেলা কার্যালয় রাঙ্গা গ্রুপের নেতাকর্মীদের দখলে রয়েছে। এদিকে এরশাদ সমর্থক নবগঠিত জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ উদভুত পরিস্থিতির জন্য রওশন এরশাদ সমর্থক রাঙ্গাকে দায়ি করছেন। অপরদিকে এ ঘটনার জন্য মসিউর রহমান রাঙ্গা নবগঠিত জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দকে দায়ি করেছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, জাতীয় পার্টির (এ) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ সমর্থক নবগঠিত জেলা ও মহানগর কমিটির হাতে জেলা কার্যালয়ের চাবি তুলে দেয়া এবং পবিত্র ঈদুল আযহা পালনের উদ্দেশ্যে শুক্রবার সকালে হেলিকপ্টারযোগে রংপুরে আসেন এরশাদ। এ সময় তিনি রংপুর স্টেডিয়ামে হেলিকপ্টার থেকে নামলে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে এগিয়ে আসেন এরশাদ সমর্থক নবগঠিত জেলা ও মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং রওশন এরশাদ সমর্থক পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গার সমর্থকরা। এতে দু’গ্রুপের মাঝে হাতাহাতি এবং ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশী প্রহরায় এরশাদ ও তার ভাই জিএম কাদের সেখান থেকে সার্কিট হাউজে যান। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থানে পর তিনি মহানগরীর দর্শনা মোড় এলাকার পল্লীনিবাস বাসভবনে
গেলে এরশাদ সমর্থক নবগঠিত জেলা ও মহানগর কমিটির নেতাকর্মী এবং রওশন এরশাদ সমর্থক পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গার সমর্থকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এতে পুলিশের এসআই শফিকুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্র সমাজের (এ) জেলা সভাপতি আশরাফুল হক জবা, জাপা (এ) কর্মী জাহিদুল, লুকু, সেলিম, মিজান, রাফি, কুদরত, মোস্তাক, শামীম, সাজু, লোকমান, হাবিব, মনিসহ ৩০ জন আহত হয়। এ সময় দৈনিক প্রথম আলোর ফটো সাংবাদিক মঈনুল ইসলামের মোটর সাইকেলসহ ২টি মোটর সাইকেল, ৩টি মাইক্রোবাস এবং বেশ কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করা হয়। সংঘর্ষ চলাকালে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা। প্রায় দেড় ঘন্টা সারাদেশের সঙ্গে রংপুর-দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড়ের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।