অপ্রতিরোধ্য গতিতে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা তাদের অপরাধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের আগে তাদের তত্পরতা বেড়ে গেছে। রাজধানীর বিভিন্নস্থানে গত দুই সপ্তাহে তিন শতাধিক ব্যক্তি অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব খুইয়েছেন। এদের মধ্যে দুইজনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। বাস যাত্রী ও কোরবানির পশুরহাটে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা অজ্ঞান পার্টির পছন্দের টার্গেটে পরিণত হয়েছে। গত শুক্রবার রাত থেকে গতকাল শনিবার বিকাল পর্যন্ত অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে ২০ জন আহত হয়েছেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের হিসাব অনুযায়ী রাজধানীতে গত দুই সপ্তাহে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে মারা গেছেন ২ জন ও গুরুতর অসুস্থ হয়েছেন ৮৪ জন। এসব ঘটনায় পুলিশ অজ্ঞান পার্টির ৮৬ জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। এদের মধ্যে মোবাইল কোর্ট ৪ জনকে ২ বছর করে ও ১ জনকে ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন শাখার উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, ঈদে বাস যাত্রী ও পশু ব্যবসায়ীদের অজ্ঞান পার্টি সম্পর্কে সচেতন করে তোলার জন্য রাজধানীতে দেড় লাখ লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি পশুরহাটে পুলিশের একটি করে অজ্ঞান পার্টি প্রতিরোধ টিম মোতায়েন করা আছে। এছাড়া পশুরহাটগুলোতে ফেরিওয়ালা ও দালালদের ব্যাপারে গোপনে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। পশুরহাটে স্থাপিত পুলিশের কন্ট্রোল রুম থেকে
এ ব্যাপারে লোকজনকে সচেতন করার জন্য মাইকিংয়ের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
গত বছরের ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার আগেও রাজধানীতে প্রায় তিনশ’ ব্যক্তি অজ্ঞান পার্টির খপ্পড়ে পড়েন। চলতি বছরে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনা গত বছরের চেয়ে বেশি।
রাজধানীর রূপনগরে ইস্টার্ন হাউজিং পশুর হাটে শুক্রবার রাতে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েন ১৫ গরু ব্যবসায়ী। অসুস্থ অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গরু ব্যবসায়ী আবু তাহের বলেন, তিনিসহ একরাম, শফিউল, রহমান, কার্তিক ও ইয়াসিন নওগাঁ থেকে ঢাকার মিরপুরে ইস্টার্ন হাউজিং গরুর হাটে আসেন। শুক্রবার রাতে তারা খিচুড়ি খান। এরপর তারা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। ধারণা করা হচ্ছে, অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা খিচুড়ির সাথে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে দিয়েছিলেন। তারা গরু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা নিয়ে যায়। অপরদিকে, একই হাটে নাটোর থেকে আসেন সিদ্দিক, শহিদুল, রহমান, রাকিব, মিজানুর, আলী, ওসমান, পলাশ ও সোবাহান। তাদের খাবারেও অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে দেয়। ঐ খাবার খাওয়ার পর তারা অচেতন হয়ে যান। তবে তাদের কাছ কোনো টাকা নিতে পারেনি দুর্বৃত্তরা। রূপনগর থানার এসআই আজিজুল হক বলেন, এ ঘটনায় গরু ব্যবসায়ী আবু তাহের রূপনগর থানায় তিনজনের নাম উল্লেখপূর্বক ও অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন। মামলায় এজাহারনামীয় ৩ আসামিকে গ্রেফতার ও তাদের কাছ থেকে ২১ হাজার ৫শ’ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। শাহবাগ থানার এসআই আরিফুর রহমান জানান, শনিবার দুপুরে গুলিস্তানে ফুটপাত থেকে সাভারের জিরানী বাজারের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন (৩০) ও তার ভাগ্নে সুফিয়ানকে (১২) অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়। আলী মিয়া (৩০) নামে ডেমরার এক বাসিন্দাকে শনিবার দুপুরে গুলিস্তান থেকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়।
ইউসুফ মোল্লা নামে একজন গরু ব্যবসায়ী জানান, গতকাল বিকালে কেরাণীগঞ্জের পশুর হাটে ব্যবসায়ী আফজাল মোল্লা ও বাদল মোল্লা দু’টি গরু ৭৪ হাজার টাকায় বিক্রি করে ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তারা গাবতলী বাস টার্মিনালে আসার জন্য মিনিবাসে ওঠেন। পরে গাবতলী বাস টার্মিনালে ঐ বাসের হেলপার দুইজনকে অসুস্থ অবস্থায় নামিয়ে দেয়। তাদের দু’জনকেই ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়েছে।