পশুবর্জ্য অপসারণে ডিসিসির ১৩ হাজার কর্মী প্রস্তুত

 
 
 
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে কোরবানির পশু জবাইয়ের পর সৃষ্ট বর্জ্য অপসারণে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কপোরেশন প্রায় ১৩ হাজার কর্মী প্রস্তুত রেখেছে। ঈদের দিন সোমবার সকাল ১০টার পর থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কোরবানির বর্জ্য অপসারণে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করবেন তারা।
পাশাপাশি কোরবানির বর্জ্য ও রক্তের দুর্গন্ধ এড়াতে উভয় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এবার বিশেষ ধরনের পলিব্যাগ বিতরণ করারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন দুর্গন্ধ দূর করতে বিশেষ ধরনের স্প্রে ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। খবর বাসসের।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আনসার আলী খান রবিবার জানান— দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫ হাজার ৮৮৪ পরিচ্ছন্নতা কর্মী কোরবানির বর্জ্য অপসারণের মাধ্যমে দক্ষিণ ঢাকাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে নিয়োজিত থাকবেন। ১২৬টি খোলা ট্রাক, ৭৩টি কনটেইনার এবং পরিবেশ-বান্ধব ১৬টি কমপ্যাক্টর গাড়ি ব্যবহার করা হবে। এর পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও ঢাকা ওয়াসা এবং ওরিয়ন গ্রুপ, আকিজ গ্রুপ ও তমা গ্রুপ তাদের নিজ-নিজ ওয়াটার বাউজার, পে-লোডার ও ডাম্প ট্রাক দিয়ে বর্জ্য-আবর্জনা সরিয়ে নিতে সিটি করপোরেশনকে সহযোগিতা করবে।
আনসার আলী খান বলেন, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন তাত্ক্ষণিকভাবে বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য ২৫ হাজার বিশেষ পলি ব্যাগ বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানের কোরবানির পশুর হাট, বড় আয়তনের আবাসিক কোয়ার্টার এবং অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে এ সব পলিব্যাগ ইতোমধ্যেই বিতরণ করা শুরু হয়েছে।
সোমবার ও পরের দিন মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মাধ্যমে বিশেষ এই বর্জ্য পলিব্যাগ বিতরণ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ দিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে— এ বছর সব মিলিয়ে ৭ হাজারের বেশি কর্মী উত্তর ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে নিয়োজিত থাকবে।
ডিসিসি উত্তরের পরিচ্ছন্ন বিভাগ সূত্রে বলা হয়, তাদের নিজস্ব ১৭০টি খোলা ট্রাক ছাড়াও ডাম্প ট্রাক, প্রাইম মুভার, পে লোডার ও লং ট্রেইলর বর্জ্য অপসারণপূর্বক পরিবহন ও ডাম্পিং গ্রাউন্ডে নেয়ার কাজে ব্যাবহার করা হবে। এর বাইরেও কোরবানির বর্জ্য সরানোর লক্ষ্যে আরো ছয়টি ডাম্প ট্রাক ও একটি প্রাইম মুভার ভাড়া নেয়া হয়েছে।
এ ছাড়া, বরাবরের মতোই এ বছরও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মহানগরীর রাস্তাঘাট ও ড্রেন জীবাণুমুক্ত রাখতে ব্লিচিং পাউডার ও জীবাণুনাশক তরল ওষুধ ব্যবহার করবে।
এর পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে দু-একটি মোবাইল অপারেটর কোম্পানির মাধ্যমে এসএমএস পাঠানোর পরিকল্পনা গ্রহণ এবং কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে। 
কয়েকটি টিভি চ্যানেলেও বিজ্ঞাপন সম্প্রচারের মাধ্যমে মহানগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।