টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে আগুনে পুড়ে তিন মেয়েসহ মায়ের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে দিকে উপজেলার গোরাইল ইউনিয়নের দক্ষিণ সোহাগপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের ধারনা এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
নিহতরা হলেন—ওই গ্রামের মজিবুর রহমানের স্ত্রী হাসনা বেগম (৩০), মরিয়ম এবং তাদের তিন মেয়ে (১৪), মিম (০৬) ও মলি (০৪)।
গোরাইল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আদিলুর রহমান জানান, ভোর চারটার দিকে প্রবাসী মজিবুরের বাড়িতে আগুন দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এলাকাবাসীর সহযোগীতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ঘরের ভেতরে থেকে মা ও তিন মেয়ের পুড়ে যাওয়া লাশ উদ্ধার করে তারা।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বলছেন, ‘প্রাথমিকভাবে আগুনের আলামত দেখে বোঝা যায় কেউ বাইরে থেকে আগুন লাগিয়েছে।’
বড় মেয়ের বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ঘরে পেট্রোল ঢেলে তাদের পুড়িয়ে মারা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) পঙ্কজ চন্দ্র রায় জানান, প্রতিবেশী বাহারউদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম দীর্ঘদিন ধরে মজিবরের বড় মেয়ে মরিয়মকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় জাহাঙ্গীরের পরিবারের লোকজন এ আগুন লাগিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আলী হোসেন নামে এক রিকশাচালককে আটক করা হয়েছে। সে দুইশ টাকার বিনিময়ে রাতে দুই কন্টেইনার পেট্রোল জাহাঙ্গীরের বাড়িতে পৌঁছে দেয়। তবে জাহাঙ্গীরের পরিবারের সবাই পলাতক রয়েছে।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহতদের লাশ উদ্ধার করে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে পেট্রোলের দুটি কন্টেইনার উদ্ধার করা হয়েছে।