গাইবান্ধা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি আব্দুল করিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ২ অক্টোবর স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ সচিব মো. সবুর হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়। গাইবান্ধা এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গত ৪ অক্টোবর উপজেলা চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্তের চিঠি পেয়েছি। আজ বুধবার উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে সেই চিঠি পাঠানো হয়েছে।
বরখাস্তের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা দুইটি মামলার অভিযোগপত্র গাইবান্ধা জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালত ও গাইবান্ধা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালত গ্রহণ করে। ফলে সরকার তার দ্বারা ক্ষমতা প্রয়োগ জনস্বার্থের পরিপন্থী মনে করায় তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সাথে প্যানেল চেয়ারম্যান—১ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রশিদা বেগমকে উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা দেওয়া কথা বলা হয়েছে।
গাইবান্ধা সদর থানার ওসি রাজিউর রহমান জানান, আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে নাশকতা ও সহিংসতা এবং সাঈদীর ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় গাইবান্ধা সদর থানায় দুইটি মামলা দায়ের করা হয়। এই দুইটি মামলার অভিযোগপত্র আদালত গ্রহণ করে।
মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে বরখাস্তকৃত উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল করিম বলেন, বরখাস্ত হবার কথা শুনেছি, তবে এ সংক্রান্ত কোন চিঠি এখনো পাইনি। তিনি বলেন, যেসব ঘটনায় আমার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। সেসব ঘটনার সাথে আমার সম্পৃক্ততা নেই। আমি এই আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবো।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ মার্চ তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হন। গত ২৯ এপ্রিল উপজেলা পরিষদের প্রথম সভা শেষে বের হওয়ার পথে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধা জেলা কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান এবং ২১ সেপ্টেম্বর উপজেলা পরিষদে কাজে যোগ দেন।