সোনারগাঁয়ে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট

গতকাল বুধবার সকাল থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনা ঘাট পর্যন্ত সব ধরনের যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। আর যাত্রীদের এ দূর্ভোগের কারণ, বিআরটিসি বাস চালু করার প্রতিবাদে সোনারগাঁয়ে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট। এ ধর্মঘট ডেকেছেন স্বল্পপাল্লার বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাসের মালিকসংগঠনের নেতারা।

এ রুটের বাসগুলি রাজধানীর গুলিস্তান থেকে সোনারগাঁয়ের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা ও মেঘনা ঘাট পর্যন্ত চলাচল করে। বর্তমানে এ রুটে যাত্রীবাহী বাস রয়েছে দোয়েল পরিবহন এবং স্বদেরশ পরিবহন। দোয়েল পরিবহন এবং স্বদেশ পরিবহনের কর্ণধর হলেন যথাক্রমে গোলজার হোসেন ভূঁইয়া আবদুর রহমান। তারা গতকাল সোনারগাঁ রিপোর্টার্স ক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের ধর্মঘটের কথা জানান। সেখানে তাঁরা বলেন, ২০১০ সাল থেকে স্বদেশ পরিবহন এবং ২০১২ সাল থেকে দোয়েল পরিবহন গুলিস্তান থেকে সোনারগাঁয়ের মেঘনা ঘাট পর্যন্ত যাত্রীদের সেবা দিয়ে আসছে। যাত্রাবাড়ীর মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজের কারণে সৃষ্ট যানজটে দুটি কোম্পানিসহ বিভিন্ন পরিবহন মালিকদের কয়েক কোটি টাকার লোকসান হয়েছে। সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির কয়েকজন নেতা নামে-বেনামে বিআরটিসি বাসের ইজারা এনে গতকাল সকাল থেকে বাস চলাচল শুরু করেন। এ বাসের উদ্বোধন করেন জাতীয় পার্টির স্থানীয় সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা। বিআরটিসি বাস চলাচল বন্ধ না হলে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট চলবে।
সাংসদ লিয়াকত হোসেন বলেন, জনগণের সুবিধার জন্য সরকারি বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। জনগণ না চাইলে বিআরটিসির সার্ভিস বন্ধ করে দেওয়া হবে। সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু নাসের ভূঞা বলেন, ‘বিআরটিসি বাস চালু হওয়ার কারণে অন্য পরিবহনের মালিকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে আমাকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমঝোতার চেষ্টা চলছে।’