সাহিত্যে নোবেল পেলেন ফ্রান্সের মোদিয়ানো

স্মৃতিচারণামূলক গ্রন্থ লেখার জন্য সাহিত্যে চলতি বছরের নোবেল পুরস্কার পেলেন ফ্রান্সের সাহিত্যিক প্যাট্রিক মোদিয়ানো। গতকাল বৃহস্পতিবার এই পুরস্কার ঘোষণা করে সুইডিশ একাডেমি। নোবেল কমিটি বলেছে, তার লেখনি আমাদেরকে ফ্রান্সের নািসদের দখলদারিত্বকে স্মরণ করিয়ে দেয়। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।

নোবেল কমিটি জানিয়েছে, মোদিয়ানো স্মৃতিকে শৈল্পিক রূপ দিয়ে তার গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি স্মৃতিশক্তি, সংবাদপত্রের খবর, সাক্ষাতকারকে মূল উপজীব্য হিসেবে ধরে রচনা করেছেন মানুষের উপলব্ধির বাইরের গন্তব্যকে। পুরস্কার ঘোষণার পর প্যাট্রিক মোদিয়ানো সম্পর্কে সুইডিশ একাডেমির স্থায়ী সেক্রেটারি পিটার অ্যাংলান্ড বলেন, তিনি এমন একজন, যিনি অনেকগুলো বই লিখেছেন, যার প্রত্যেকটিতেই যেন অপরটির প্রতিধ্বনি যেখানে স্মৃতি, স্বত্তা ও লক্ষ্য এ বিষয়গুলোর উপস্থিতি রয়েছে। ইতিহাসনির্ভর ঔপন্যাসিক মোদিয়ানোর জন্ম ১৯৪৫ সালে ফ্রান্সের প্যারিসে। তার সাহিত্যকর্মের একটা বড় অংশ জুড়েই উঠে এসেছে তত্কালীন ফ্রান্সে নািস বাহিনীর দখলদারিত্বের কথা। তার পিতা ছিলেন ব্যবসায়ী। মা ছিলেন অভিনেত্রী। স্কুল ছেড়ে তিনি পড়াশোনা করেন প্যারিসের লিসি হেনরি ফোর এ। সেখানে রেমন্ড কুইনিউ’র কাছে তিনি শিক্ষা নেন জ্যামিতি। এই রেমন্ডই তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে ভূমিকা রাখেন। ১৯৬৮ সালে মোদিয়ানো ‘লা প্লেস ডি লেটোইলে’ উপন্যাসের মাধ্যমে লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এ উপন্যাসটি ব্যাপক পাঠাকের মনোযোগ আকর্ষণ করে। মূলত ঔপন্যাসিক হলেও তিনি শিশুতোষ বই ও সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন। তার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাস হচ্ছে- মিসিং পারসন, এ ট্রেস অব ম্যালিস, হানিমুন ইত্যাদি। মোদিয়ানোর বেশ কিছু রচনা ইংরেজি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘লেস বুলভার্ডস ডি সেঞ্চুরে’, ‘রিং রোডস: এ নোভেল’, ভিলা ত্রিসতি (১৯৭৫)’, ভিলা ত্রিসতি (১৯৭৭)’, ‘এ ট্রেস অব ম্যালিসে’, ‘ভয়েস ডি নোসেস (১৯৯০; হানিমুন, ১৯৯২)’। আগামী ১০ ডিসেম্বর নোবেল পুরস্কারের প্রবর্তক আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে সুইডেনের স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে সাহিত্যে নোবেলজয়ী প্যাট্রিক মোদিয়ানোর হাতে পুরস্কারের ৮০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার (১১ লাখ ডলার) তুলে দেয়া হবে। গত বছর সাহিত্যে নোবেল পেয়েছিলেন কানাডার ছোট গল্পকার এলিস মুনরো।