স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের নারীরা। অসচেতনতা, অজ্ঞতা, সঠিক তথ্যের অভাব, নারীর প্রতি বৈষম্য, সামাজিক অবস্থা এবং লোকলজ্জা এই ঝুঁকিকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিজ্ঞজনেরা। ফলে প্রতিবছর প্রাণ হারাচ্ছেন হাজার হাজার নারী। কিন্তু তারা জানান, কিছু ব্যতিক্রম ক্ষেত্র ছাড়া ক্যান্সার এখন আর জীবনঘাতী কোন রোগ নয়। দেশেই চিকিৎসা করে পঞ্চাশ শতাংশ ক্যান্সার নিরাময় করা সম্ভব। উন্নত বিশ্বে যেমন ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ক্যান্সার চিকিৎসা সম্ভব হয় ,তেমন অবস্থায় বাংলাদেশও পৌঁছে গেছে। শুক্রবার জাতীয় প্রেসকাবে অনুষ্ঠিত
এক সাংবাদিক সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন।
স্তন ক্যান্সার সচেতনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের নেতৃত্বে জেগে উঠুন, জেনে নিন ’ প্রতিপাদ্য করে ২১টি সংগঠনের উদ্যোগে স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরাম এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে।
সাংবাদিক সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক মো. শামিউল ইসলাম সাদি। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার। আরও বক্তব্য রাখেন ক্যান্সার সোসাইটির মহাসচিব অধ্যাপক শেখ গোলাম মুস্তাফা, শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ব বিদ্যালয়ের গাইনী ক্যান্সার বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সাবেরা খাতুন, অধ্যাপক আশ্রাফুন নেসা, সিসিপিআরএর নির্বাহী পরিচালক মুসাররাত জাহান, নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক পারভিন সুলতানা ঝুমা, কবি কাজী রোজী প্রমুখ।
অধ্যাপক মো. শামিউল ইসলাম সাদি বলেন, ক্যান্সার নির্ণয়ের সম্পূর্ণ ব্যবস্থাপনা এখন দেশে আছে। এই ব্যবস্থা শুধু ঢাকা কেন্দ্রীক নয়, বিভাগীয় শহরসহ জেলা শহরেও ক্যান্সার নির্ণয় করা যায়। তিনি আরও বলেন, স্তন ক্যান্সারে ঝুঁকি সাধারণত ত্রিশ বছর পরে হলেও আমাদের দেশে এর আগেও স্তন ক্যান্সার হয়েছে। অন্যদেশের তুলনায় আমাদের দেশে টিনেজ মেয়েদের স্তন ক্যান্সার বেশি লক্ষ্য করা যায়। এর কারণ তাদের জীবন-যাপন প্রণালী ও খাদ্যাভাস। তারা শাকসব্জি ফলমূল খায়না।
অধ্যাপক শেখ গোলাম মুস্তাফা বলেন, সচেতনতার অভাবে অনেকে এ ব্যাপারে পরীক্ষা করান না। ফলে সঠিক পরিসংখ্যান আমরা জানতে পারি না। তিনি অচিরে দেশে আড়াইশ শয্যার ক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার কথা জানান।
আর চিকিৎসা সম্পূর্ণ করতে ক্যান্সার সংক্রান্ত রোগি, নিরাময় করা রোগি, কি পরিমাণ রোগি আছে এই সকল পরিসংখ্যান করা জরুরি বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক সাবেরা খাতুন । তিনি বলেন, আমাদের গ্রামের মেয়েরা আজও এত লাজুক যে তারা স্তন ক্যান্সার চিকিৎসা করাতে চান না। ফলে রোগ মরণঘাতী রূপ নেয়। অবস্থা পরিবর্তনে তিনি গণমাধ্যমে বেশি সচেতনতামূলক প্রচারণায় জোর দেন।
অন্য বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ৯০ শতাংশ েেত্রই সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসা বাঁচিয়ে তুলতে পারে রোগীকে এবং দিতে পারে সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন। বয়স ৩০ বছরের বেশি হলে নিয়মিত স্তন পরীার পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ সঠিকভাবে মেনে চললে দেশে বসেই এ রোগের কার্যকর চিকিৎসা সম্ভব। শহুরে নারীদের মধ্যে কিছুটা সচেতনতা তৈরি হলেও এখনও স্তন ক্যান্সার নিয়ে তেমন কিছু জানেন না গ্রামাঞ্চলের নারীরা। এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর জোর দেন বিশেষজ্ঞরা।