খালেদাকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের পদ ছাড়ার পরামর্শ হাছান মাহমুদের

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক দৈন্যদশার জন্য খালেদা জিয়াকে দায়ী করে তাকে দলীয় চেয়ারপার্সনের পদ থেকে পদত্যাগ করার পরামর্শ দিয়েছেন। শুক্রবার সেগুনবাগিচাস্থ বীর উত্তম খাজা নিজামউদ্দিন মিলনায়তনে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ আয়োজিত চলমান রাজনীতি ও বর্তমান প্রেক্ষাপট শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
হাছান মাহমুদ বলেন, অন্যের ওপর দোষারোপ না করে খালেদা জিয়া নিজে দলীয় দল থেকে পদত্যাগ করলেই বিএনপি রক্ষা পাবে।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার নির্দেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা অতীতে দিনক্ষণ ঘোষণা করে আন্দোলনের নামে অসংখ্য মানুষ হত্যা করেছে। এ কারণে তারা এখন জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তবে দিনক্ষণ দিয়ে যে আন্দোলন হয় না সেটা এতোদিন পর খালেদা জিয়া বুঝতে সক্ষম হয়েছেন। বিষয়টি এতো দেরিতে বুঝতে পারার কারণে তিনি বিএনপির মত রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দেবার যোগ্য কিনা সে নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। খালেদা জিয়ার উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি (খালেদা) নেতৃত্ব ছাড়ুন। দায়িত্ব অন্য কারো কাছে দিন। দেখবেন বিএনপি আরো ভালো করবে। ‘দেশের মানুষ ভালো নেই’ মর্মে সম্প্রতি খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে হাছান মাহমুদ বলেন, দেশের মানুষ ভালো আছে। ভালো নেই খালেদা জিয়া নিজে। তাঁর পুত্ররা দুর্নীতির অভিযোগে দেশছাড়া। তার তো ভালো থাকার কারণ নেই।
হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। জঙ্গিবাদী চক্র সক্রিয়। এদের নেটওয়ার্ক বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। আর এদের পৃষ্ঠপোষক হলেন খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়া তাদের সঙ্গে জোট করেছেন। তাদের কাছে দেশ, রাজনীতি ও গণতন্ত্র নিরাপদ নয়। তিনি বলেন, গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে যারা প্রশ্ন তোলেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে তাদের মুখে ছাই দিয়েছেন। দেশবাসীকে আরো সজাগ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, দেশে অনেক গুণীজন রয়েছেন, যাদের কাজই হলো বিশেষ কয়েকটি দূতাবাসে গিয়ে সেখানকার কর্মকর্তাদের ‘পা টেপা’। তারা কেউ জীবনে এমপি হতে পারেননি। আর বিএনপি তাদের সুরে সুর মিলিয়ে বড় ভুল করেছে।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি হাসিবুর রহমান মানিকের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সুজীত রায় নন্দী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক বলরাম পোদ্দার, ব্যারিস্টার জাকির হোসেন প্রমুখ।