ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড পুরস্কার পেল বানৌজা ওসমান

 
দীর্ঘ ২৫ বছর দেশে-বিদেশে যে অসামান্য অবদান রাখার জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ (বানৌজা) ওসমান ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড পুরস্কার পেয়েছে। শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই পুরস্কার প্রদান করেন। খবর: বাসসের।
চট্টগ্রামে বানৌজা ওসমানকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড পুরস্কার প্রদান উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বানৌজা ওসমান বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অবস্থান আরেকটি নতুন ধাপে উন্নীত করল। দিনটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীসহ গোটা জাতির জন্য অত্যন্ত গৌরবের।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এই ঐতিহাসিক দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যিনি ১৯৭৪ সালে বানৌজা ঈসাখানকে প্রথম ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অগ্রযাত্রার স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় তার বিগত সরকারের সময় অত্যাধুনিক জাহাজ ‘বানৌজা বঙ্গবন্ধু’ নৌবাহিনীতে সংযুক্ত হয়। যাকে আমি গত বছর ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান করি।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশের সমুদ্রসীমা নির্ধারণের লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে “দ্য টেরিটরিয়াল ওয়াটারস্ এন্ড মেরিটাইম জোন অ্যাক্ট” প্রণয়ন করেন। আমরা ২০০৯ এ সরকার গঠনের পর পরই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে বিরোধপূর্ণ সমুদ্র এলাকা নির্ধারণের উদ্যোগ নিই। 
তিনি বলেন, এ উদ্যোগের কারণেই আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ের মাধ্যমে ২০১২ সালে মায়ানমারের সাথে এবং এ বছর ভারতের সাথে শান্তিপূর্ণভাবে সমুদ্রসীমা নির্ধারণ সম্ভব হয়েছে। 
শেখ হাসিনা বলেন, সমুদ্রসীমা নির্ধারিত হওয়ায় বাংলাদেশের ভূ-খ-ের প্রায় সমপরিমাণ সমুদ্র এলাকা এবং এর স¤পদের ওপর দেশের দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে এই সম্পদ আহরণসহ সমুদ্র এলাকার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। 
বহুমুখী নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্রবাহী যুদ্ধ জাহাজ বানৌজা ওসমান ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কমিশন লাভ করে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখ-তা রক্ষায় ব্যাপক অবদান রেখেছে জাহাজটি। এটি দেশে ও বিদেশে পাঁচ শতাধিক মহড়ায় অংশ নিয়েছে এবং এতে নৌবাহিনীর ৪৪৫ জন কর্মকর্তা ও নাবিক প্রশিক্ষণ নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে এসে পৌঁছানোর পর নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল এম ফরিদ হাবিব, এনডিসি, পিএসসি, তাকে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় নৌবাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। বানৌজা ওসমান লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরা মিশনে চার বছর নিয়োজিত থেকে দেশের জন্য অসামান্য সম্মান ও গৌরব বয়ে এনে সম্প্রতি বাংলাদেশে ফিরেছে।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান, স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ, কূটনীতিকগণ, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং উর্ধ্বতন বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার নির্দেশে ১৯৭৪ সালে প্রণীত প্রতিরক্ষা নীতির আলোকে ১৯৯৬ সালের তার সরকারের সময় নৌবাহিনীকে একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়।