লতিফ সিদ্দিকীর অপরাধ গর্হিত: প্রধানমন্ত্রী



সাংবিধানিকভাবেই লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমাদের একজন মন্ত্রী (লতিফ সিদ্দিকী), এখনতো উনি প্রাক্তণ মন্ত্রী; যেভাবে ধর্ম নিয়ে কটুক্তি করেছেন, এ ধরনের কটুক্তি মেনে নেয়া সম্ভব নয়। আমি জানি না তিনি কেন এ কথা বলেছেন। তবে তিনি যেটা বলেছেন সেটা গর্হিত অপরাধ।
রবিবার আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেয়ার মূল এজেন্ডা নিয়েই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এ বৈঠক শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ্বাস করে কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। সব ধর্মের মানুষ মর্যাদা নিয়ে চলবে এটাই আমরা চাই। আমাদের দলের কেউ এমন মানসিকতা পোষণ করুক তা আমরা চাইনা।’ তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের লোকজনই বেশি ধর্ম কর্ম পালন করে।’
শেখ হাসিনা বলেন, তিনি যখন এ ধরনের মন্তব্য করেছেন তখন আমি ( শেখ হাসিনা) দেশের বাইরে ছিলাম। আমার নির্দেশে ফাইল (অপসারণের) তৈরি করা ছিল। কালকে (শনিবার) বসে সই করেছি। আজ গিয়েছি প্রেসিডেন্টের কাছে। সেখানে প্রেসিডেন্টের সইয়ের পর প্রজ্ঞাপণ জারি করা হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, চলার পথে ভুল ত্রুটি হতে পারে। তবে আমরা তা শোধরাতে পারি। তা আমরা প্রমাণ করেছি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের আমলে গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, সামান্য কিছু লোক আছে, যাদের দল করার সামর্থ নেই, ভোট করার ক্ষমতা নেই। সিকি কখন ছিড়বে আর তারা কখন ক্ষমতায় যাবে সে চিন্তায় থাকে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সার্কাসের সে গাঁধা ও রশিতে চড়া সুন্দরী মেয়ের গল্প তুলে ধরেন।
সরকার প্রধান বলেন, কিছু সংখ্যক লোক এমন আছে যাদের ইয়াহিয়া খান রেখে গেছে, তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে কিছু লোক ক্ষমতার জন্য তাকিয়ে থাকে। এসব সুদখোর, ঘুষখোর, আলবদর রাজাকারদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার কাজে এরা ব্যস্ত। এসময় তিনি দেশের উন্নয়নে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সময়ের ত্যাগের কথা উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এ সময় সভায় সাজেদা চৌধুরী, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, ওবায়দুল কাদের, কাজী জাফরউল্লাহ, নূহ উল আলম লেনিন, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সতীশ চন্দ্র রায়, সাহারা খাতুনসহ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রায় সব নেতাই উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সূচনা বক্তব্যের পর রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু হয়।