অতিরিক্ত যাত্রী নেয়ায় লঞ্চের রুট পারমিট বাতিল, মামলা

ঈদ ও পূজার ছুটি কাটিয়ে দক্ষিণাঞ্চল থেকে ঢাকায় ফেরার পথে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জানা গেছে, অতিরিক্ত যাত্রী নেয়ার অভিযোগে বিআইডব্লিউটিএ গত শনিবার রাতে বরিশাল ও পটুয়াখালী নৌ-বন্দরে দু’টি লঞ্চ যাত্রীসহ আটক করে রুট পারমিট বাতিল করে দেয় ও একটি লঞ্চের মালিকসহ স্টাফদের বিরুদ্ধে মামলা করে। এছাড়া একই অভিযোগে অপর একটি লঞ্চকে জরিমানা করে। ফলে গতকাল রবিবার সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে আটক দুই লঞ্চের হাজার হাজার যাত্রী ঢাকায় পৌঁছাতে পারেননি। রাতভর তাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, মঠবাড়িয়া ও  তুষখালীসহ কয়েকটি স্টেশন থেকে দুই সহস্রাধিক যাত্রী নিয়ে পূবালী-১ নামের একটি লঞ্চ ঢাকা যাওয়ার পথে রাত সাড়ে ১০ টার দিকে বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তারা বরিশাল নৌ-বন্দরে লঞ্চটি আটক করেন। পরে লঞ্চটির রুট পারমিট বাতিল করা হয়। রাত ১১ টার দিকে এ সিদ্ধান্ত জানার পর লঞ্চযাত্রীরা দফায় দফায় বিক্ষোভ করেন। রাতভর যাত্রীদের আটক করা লঞ্চেই দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। যাত্রীদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, তাদের রাতটি পার করতে হয়েছে বরিশাল নৌ-বন্দরেই। গতকাল অনেকে সড়ক পথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হলেও যারা পরিবার-পরিজন নিয়ে পূবালী লঞ্চে উঠেছিলেন তাদের দুর্ভোগের শেষ ছিল না। গতকাল দুপুরে গিয়ে দেখা গেছে, আটক হওয়া পূবালী লঞ্চের       আটকেপড়া যাত্রীরা ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন লঞ্চের ডেকে চাদর বিছিয়ে পুনরায় ঢাকাগামী যাত্রী হয়েছেন। শনিবার দুপুরে রওনা হওয়া এ সব যাত্রীরা বিকল্প লঞ্চে সোমবার কখন ঢাকায় পৌঁছতে পারবেন তার কোন নিশ্চয়তা নেই। যাত্রীদের অনেকেরই খাওয়া-দাওয়ার টাকা পর্যন্ত নেই। কেউ রুটি-কলা খেয়েই দিন পার করছেন।
বরিশাল নৌ-বন্দরের কর্মকর্তা আবুল বাসার মজুমদার ইত্তেফাককে জানান, পূবালী-১ লঞ্চটির ধারণক্ষমতা ৬৪৪ জন। কিন্ত দুই থেকে আড়াই হাজার যাত্রী নিয়ে লঞ্চটি দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে ঢাকায় রওনা হলে আটক করে রুট পারমিট বাতিল করা হয়েছে। 
এদিকে একই সময় ঝালকাঠি থেকে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঢাকা রওনা হওয়া সুন্দরবন-২ লঞ্চটি বরিশাল নৌ-বন্দরে আটকের পর রুট পারমিট বাতিলের কথা জানানো হলেও পরবর্তীতে ঐ লঞ্চটি ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে ঝালকাঠি ঘাট থেকে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ছাড়ার সময় লঞ্চটিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেন ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন বলে জানা গেছে।
বিআইডব্লিউটিএ’র উপ-পরিচালক মো. শহিদুল্লাহ প্রথমে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, দু’টি লঞ্চেরই রুট পারমিট বাতিল করা হয়েছে। তবে পরবর্তীতে তিনি জানান, শুধু পূবালী-১ লঞ্চটির রুট পারমিট বাতিল করে ঘাটে আটকে রাখা হয়েছে। আর সুন্দরবন-২ লঞ্চের ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এছাড়া একই দিন পটুয়াখালী থেকে ঢাকাগামী কুয়াকাটা-১ নামের অপর একটি লঞ্চের রুট পারমিট বাতিল করে লঞ্চ মালিক কালাম খান ও সারেং-সুকানিকে আসামি করে মেরিন কোর্টে মামলা করেছে বিআইডব্লিউটিএ। নৌকা যোগে অতিরিক্ত যাত্রী তোলার সময় বিআইডব্লিউটিএ’র বন্দর কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক লঞ্চটিকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে লঞ্চটির রুট পারমিট বাতিল করে মামলা করেন। এ লঞ্চের যাত্রীরাও গতকাল রবিবার ঢাকায় পৌঁছাতে পারেননি। অনেকে পটুয়াখালী থেকে সড়ক পথে বরিশালে এসে গতকাল অন্য লঞ্চে ঢাকায় রওনা হয়েছেন।

যাত্রীরা জানান, বিআইডব্লিউটিএ’র কঠোর মনোভাব ও নৌ-পুলিশের তত্পরতায় নৌ-যান চলাচলে অনেকটা শৃঙ্খলা ফিরে এলেও চলতি পথে লঞ্চ আটক করায় কর্মস্থলগামী মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।