লতিফ সিদ্দিকীর মন্ত্রিত্বের অবসান

 পবিত্র হজ্ব, হজ্বযাত্রী, তাবলিগ জামায়াত নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে ফেঁসে যাওয়া ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম থেকেও তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এছাড়া তার দলের প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসেইন ভূইঞা গতকাল রবিবার দুপুরে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। এর পরপরই মন্ত্রিসভায় লতিফ সিদ্দিকীর নিয়োগের অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্রপতির আদেশ জারি করা হয়।
গতকাল রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে দলের প্রেসিডিয়ামের সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। একইসঙ্গে দলে তার প্রাথমিক সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। স্থায়ীভাবে কেন তার প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিল করা হবে না মর্মে তার স্থায়ী ঠিকানায় আজ সোমবার নোটিস পাঠানো হবে। নোটিসের জবাব ৭ দিনের মধ্যে দেয়ার বাধ্যবাধকতা দেয়া হবে। বৈঠক শেষে গতরাতে দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী সংবিধানের ৫৮ অনুচ্ছেদের (২) দফা অনুযায়ী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর মন্ত্রী পদে নিয়োগের অবসান ঘটানোর জন্য রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দেন। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৫৮ অনুচ্ছেদের (১) দফার (গ) উপদফা অনুসারে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর মন্ত্রী পদের নিয়োগের অবসান ঘটানোর নির্দেশ প্রদান করেন। এর ভিত্তিতেই মন্ত্রিসভা থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়ার আদেশ জারি করা হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৮ অনুচ্ছেদের (১) দফার (গ) উপদফা অনুযায়ী ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মাননীয় মন্ত্রী জনাব আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রী পদে নিয়োগের অবসান হয়েছে। (২) এটি অবিলম্ব্বে কার্যকর হবে।” প্রসঙ্গত, গত ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে টাঙ্গাইল সমিতির সঙ্গে মতবিনিময়ে        লতিফ সিদ্দিকী হজ্ব, হজ্বযাত্রী, তাবলিগ জামায়াত, প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওযাজেদ জয় ও সাংবাদিকদের সম্পর্কে নানা ধরনের বিতর্কিত মন্তব্য করেন। এ নিয়ে দেশে-বিদেশে, এমনকি সরকারি দলের মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। 
গত ৩ অক্টোবর গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট করেই জানিয়ে দেন যে, ওই ধরনের মন্তব্যের জন্য লতিফ সিদ্দিকীকেই খেসারত দিতে হবে। তিনি এও জানিয়ে দেন যে, তাকে মন্ত্রিসভা ও দল থেকে বাদ দেয়া হবে।