উন্নত দেশগুলো পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য দায়ী : বন ও পরিবেশ মন্ত্রী

 
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, উন্নত দেশগুলো পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য দায়ী। কিন্তু দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিশ্রুত অর্থছাড়ে তাদের অনীহা প্রকল্প বাস্তবায়নে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগকে একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে।
সোমবার আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস ২০১৪ উপলক্ষে আয়োজিত দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রলণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এ উপলক্ষে মন্ত্রণালয় আলোচনা সভা ছাড়াও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, প্রদর্শনী, ক্রোড়পত্র ও স্মরনিকা প্রকাশ এবং পোস্টার ও লিফলেট ছাপিয়ে বিতরণ করেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ সম্ভু এমপি, মন্ত্রণালয়ের সচিব মেছবাহ উল আলম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুল ওয়াজেদ প্রমুখ।
এ সময় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সাথে সম্পৃক্ত দেশি-বিদেশি এনজিও প্রতিনিধিগণ, রেডক্রিসেন্টের প্রতিনিধিগণ, সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তাগণ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দগণ উপস্থিত ছিলেন।
এ বছর দিবসটির আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য ‘রিজিলিয়্যান্স ইজ ফর লাইফ’ এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে বাংলাদেশে এর প্রতিপাদ্য করা হয়েছে ‘জীবনব্যাপী সক্ষমতা’। জীবনের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে আসা দুর্যোগ মোকাবেলায়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর উপর এ বছর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, ১৯৭০ সালে ক্যাটাগরি- ৪ এর ঘূর্ণিঝড়ে ৩ লক্ষের বেশি প্রাণহানী ঘটেছিল। দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা অর্জনের ফলে একই মাত্রার ঘূর্ণিঝড় সিডরে ২০০৭ সালে ৩৩৬৩ জন, ২০০৯ সালের আইলায় ১৯০ জন এবং সর্বশেষ ঘূর্ণিঝড় মহাসেনে মাত্র ১৭ জনের প্রাণহানী ঘটে।
তিনি উল্লেখ করেন, একই ক্যাটাগরির ঘূর্ণিঝড় নার্গিসে ২০১০ সালে মায়ানমারে দেড় লাখের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়কালে আশ্রয়কেন্দ্রের গুরুত্ব উপলদ্ধি করে ত্রাণ মন্ত্রী মায়া বলেন, সরকার ইতোমধ্যে ৪ হাজারের অধিক আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করেছে। এছাড়া অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রতিবছর জিওবি’র অর্থায়নে ১০০টি করে নতুন আশ্রয়কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে। তবে দুর্যোগকালে সারাদেশে ৬ হাজারের অধিক আশ্রয়কেন্দ্র প্রয়োজন। এসব আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে তিনি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহবান জানান।
তিনি বলেন, উপকূলীয় এলাকায় ১৪টি কমিউনিটি রেডিওর মাধ্যমে স্থানীয় ভাষায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংক্রান্ত বুলেটিন প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এছাড়া দুর্যোগকালে ১০৯৪১ নাম্বারে মোবাইল করে আবহাওয়া ও দুর্যোগ বার্তা অনুযায়ী প্রস্তুতি নেয়ার জন্যও তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান।
মন্ত্রী আরো বলেন, ভূমিকম্প মোকাবিলায় সরকার দেশকে ৩টি জোনে ভাগ করে প্রধান ৬টি শহরের মাইক্রোজোনেশন ম্যাপ তৈরির কাজ করছে। ঢাকা শহরকে ৮টি ভাগে ভাগ করে কন্টিজেন্সী প্লান তৈরি করা হয়েছে। খবর বাসস।