মারধর করার পর ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে শিশু মায়মুনাকে হত্যা করা হয়েছে। ছয় বছরের এই শিশুটি রাতে টয়লেটে যাওয়ার জন্য তার সত্ মায়ের কাছে কান্নাকাটি করে। মায়মুনাকে সৎমা শারমিন টয়লেটে ঠিকই নিয়ে হত্যা করে লাশ টয়লেটের পানির ড্রামের ভেতর রাখে। ছয় বছরের শিশু মায়মুনাকে নৃশংসভাবে হত্যার এমন লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন সৎসা সুমাইয়া ইসলাম শারমিন।
সোমবার সকালে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট স্নিগ্ধা রাণী চক্রবর্তীর কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন শারমিন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তার স্বীকারোক্তি লিপিবদ্ধ করার পর তাকে ঢাকা কেন্দ্রিয় কারাগারে পাঠানো হয়।
গত শুক্রবার যাত্রাবাড়ীর ধলপুর এলাকার হাসনাহেনা লেনের ৮৯/১১ নম্বর বাসার বাথরুমের ড্রামের ভেতর থেকে শিশু মায়মুনার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার কাঁধ ও হাতের কব্জি ভাঙ্গা ছিল। মায়মুনার বাবা আব্দুর রাজ্জাক দ্বিতীয় স্ত্রী শারমিন ও অজ্ঞাত কয়েকজনের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। লাশ উদ্ধারের পরপরই পুলিশ শারমিনকে গ্রেফতার করে।
জবানবন্দীতে তিনি আরো বলেন, বৃহস্পতিবার তার স্বামী আব্দুর রাজ্জাক গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে যান। ঐ দিন রাতেই একা থাকতে ভয় করে বলে শাশুড়ি ফুলজান বিবির কাছ থেকে মায়মুনাকে ডেকে তার ঘরে নিয়ে আসেন। মায়মুনা সবসময় তার দাদি ফুলজান বিবির সঙ্গে ঘুমাত। রাত ৩টার দিকে মায়মুনা হঠাত্ তাকে ডাকাডাকি শুরু করে। তাকে টয়লেটে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলে। এতে তিনি বিরক্ত হন। বারবার ডাকাডাকির কারণে মায়মুনাকে তিনি চড়-থাপ্পড় মারেন। এসময় মায়মুনা চিত্কার করে কেঁদে ওঠে। মধ্যরাতে মায়মুনার চিত্কারের শব্দ যেন বাইরে না যায় এজন্য তিনি মুখ চেপে ধরেন। এতে ছটফটানো শুরু করে মায়মুনা। হাত থেকে ছুটে গিয়ে আবারো চিত্কার শুরু করে। এতে তিনি আরো বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে ওড়না দিয়ে মায়মুনার মুখ চেপে ধরেন। কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারে মায়মুনা আর নড়াচড়া করছে না। পরে ওড়না সরিয়ে দেখেন মায়মুন নিথর হয়ে পড়ে আছে। কয়েকবার ডাকাডাকি করে বুঝতে পারেন মায়মুনা আর বেঁচে নেই। মায়মুনার লাশ বিছানায় নিয়ে তিনি কিছুক্ষণ বসে থাকেন। এরপর যে কোন একটি নাটক সাজানোর চেষ্টা করেন। পরে রাতেই মায়মুনার লাশ কোলে নিয়ে বাথরুমে যান। সেখানে ড্রাম ভর্তি পানিতে নিহত মায়মুনার মাথার অংশটি নিচের দিকে চুবিয়ে দেন। পা দুটো ড্রামের বাইরে রেখে ফিরে আসেন নিজের ঘরে। পরে ঘুমের ভান করে বিছানায় পড়ে থাকেন। সকালে তার শাশুড়ি মায়মুনাকে ডাকাডাকি করে। তিনি এসময় শাশুড়িকে বলেন, সকালে উঠে হয়তো বাথরুমে গেছে। পরে শাশুড়ি বাথরুমে গিয়ে মায়মুনাকে ড্রামের ভেতরে অর্ধেক আর বাইরে অর্ধেক দেখে চিত্কার শুরু করে। পরে পুলিশ গিয়ে মায়মুনার লাশ উদ্ধার করে।
মায়মুনা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল।