ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ একবারই

 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স প্রথম বর্ষে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীরা শুধু একবার ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। ভর্তিচ্ছুরা যে বছর এইচএসসি পাস করবেন ঐ বছরই ভর্তির আবেদন করতে পারবেন। আগামী শিক্ষাবর্ষ ২০১৫-১৬ থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতদিন শিক্ষার্থীরা যে বছর এইচএসসি পাস করেছেন ঐ বছর এবং তার পরের বছর ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারতেন। দেশে উচ্চশিক্ষায় আসন সংকটের মধ্যেই নতুন এ সিদ্ধান্তের কারণে দুইবার পরীক্ষার সিটে বসার সুযোগ হারালেন শিক্ষার্থীরা। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এইচএসসি পাস ও অধ্যয়নরত কয়েকজন শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির সাধারণ সভায় ভর্তি সংক্রান্ত এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। একইসাথে চলতি ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে ইংরেজি বিভাগে ভর্তিতে সাধারণ ইংরেজিতে ১৮ এবং ইলেকটিভ ইংরেজিতে ৮ পাওয়ার শর্ত চূড়ান্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।
বৈঠক সূত্র জানায়, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে শুধু একবার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা। দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না তারা। দ্বিতীয়বার ভর্তির সুযোগের কারণে প্রতিবছর বিভিন্ন বিভাগে আসন শূণ্য থাকে। আবার দ্বিতীয়বার ভর্তিচ্ছুদের মধ্যে জালিয়াতির প্রবণতাও বেশি। তাই নতুন এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছুরা দ্বিতীয় দফায় ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। ভর্তিচ্ছুরা যে বছর এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় পাস করবেন শুধু ঐ বছরই  ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা নেয়ায় প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক বিভাগে আসন ফাঁকা থেকে যায়। আসন যাতে ফাঁকা না থাকে সেজন্য এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
কলা অনুষদের ডিন ও খ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার সমন্তয়কারী অধ্যাপক সদরুল আমিন বলেন, দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা সারা বছর পড়াশুনা করে প্রথমবার অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের চেয়ে এগিয়ে থাকে এবং কোচিং সেন্টারের সহযোগিতা নিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি করার চেষ্টা করে। নতুন সিদ্ধান্ত ভর্তিচ্ছুদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে।
এদিকে সভায় ইংরেজি বিভাগে ভর্তির শর্ত শিথিল করার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে। এ বছর এ বিভাগে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের সাধারণ ইংরেজিতে ১৮ এবং ইলেকটিভ ইংরেজিতে ৮ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে। সম্প্রতি ইংরেজি বিভাগে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের সাধারণ ইংরেজিতে ২০ নম্বর ও ইলেকটিভ ইংলিশে ১৫ নম্বর প্রাপ্তির শর্ত বেধে দিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শর্তানুযায়ী মাত্র দুইজন শিক্ষার্থী বিভাগে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করে। তাই নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল কর্তৃপক্ষ। তারপরও ‘খ’ ইউনিটের মাধ্যমে এ বিভাগে আসন পূরণ করা না গেলে ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে একই শর্তে ইংরেজি বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন জানান, শর্ত শিথিল করার পরও এবার স্বল্প সংখ্যাক শিক্ষার্থী কলা অনুষদের অধীন ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়া পরীক্ষার্থী ইংরেজী বিভাগে ভর্তি হতে পারবেন। কারণ এই ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় মোট ১৭ জন শিক্ষার্থী ইলেকটিভ ইংলিশে পাস নম্বর ৮ পেয়েছেন। আবার এদের সবাই ইংরেজি বিভাগে ভর্তি নাও হতে পারেন।
বৈঠক সূত্র জানায়, ইংরেজি বিভাগের ১৫০টি আসনের মধ্যে ১২৫টি আসন খ ইউনিট থেকে পূরণ করার কথা। বাকি ২৫টি ঘ ইউনিট থেকে পূরণ করার কথা ছিল। গতকালের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শর্ত শিথিলের পরেও খ ইউনিটের পরীক্ষায় মাত্র ১৭ জন ইংরেজি বিভাগে ভর্তির যোগ্যতা রাখে। এই ইউনিটের বাকী ১০৮টি আসনসহ মোট ১৩৩টি আসনে ভর্তির জন্য সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ঘ ইউনিট থেকে পরীক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।