গাইবান্ধার ফুলছড়িতে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে ঐতিহ্যবাহি ঈদগাঁ মাঠ, কামারপাড়া সর্বজনীন দুর্গা মন্দিরসহ চার শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি নদের গর্ভে বিলীন হয়ে গেলেও কতৃপক্ষের ঘুম ভাঙছে না। ফুলছড়ি সিনিয়র আলিম মাদ্রসাটি ব্রহ্মপুত্র থেকে মাত্র পঁচিশ হাত দূরে অবস্থান করছে। দীর্ঘদিনের এই পুরনো প্রতিষ্ঠানটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছে এলকাবাসী।
সরেজমিন দেখা যায়, ফুলছড়ি রক্ষা প্রকল্পের দক্ষিণাংশে কামারপাড়া ও নামাপাড়া এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন এখনো থামেনি। ভাঙন প্রতিরোধের উদ্যোগেও নেই পাউবোর। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি যতই কমছে, ভাঙনের তীব্রতা ততই বেড়েই চলেছে। ব্রহ্মপুত্রে স্রোতের গতিপথ অন্য দিকে প্রবাহিত করতে গ্রামবাসী বড় বড় গাছপালা নদীতে ফেলছে। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হচ্ছে না। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী ভাঙন কবলিত এলাকায় যাননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কামারপাড়া এলাকার ভয়োতোষ রায় মনা বলেন, ভাঙতে ভাঙতে ঈদগাঁ মাঠ, মন্দির ও ৪০০ পরিবারের ঘরবাড়ি, বসতভিটা, গাছপালা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এই ৪শ’ পরিবারের লোকজন এখনো খোলা আকাশের নিচে জীবনযাপন করছে।
মন্দির কমিটির সভাপতি অশ্বনী কুমার ঘোষ জানান, চোখের সামনেই একবারে ৭/৮ শতাংশ জায়গা ব্রহ্মপুত্র নদে ডেবে গেল। সেজন্য মন্দিরের বেড়া ও প্রয়োজনীয় মালপত্র সরিয়ে নিয়ে শুধু ঘরের চালাটি রেখেছে নদী তীরে।
উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনোতোষ রায় মিন্টু বলেন, দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ঘনবসতির্পূণ এলাকা রক্ষা এবং ভাঙনে ভিটেমাটি হারা পরিবারগুলোকে পুনর্বাসনের জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। কিন্তু তাদের কোন উদ্যোগ নেই।
গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আউয়াল মিয়া বলেন, ইতিপূর্বে ওই ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ নদে ফেলানো হয়েছে। কিন্তু ভাঙনের তীব্রতা বেশি থাকায় কোন কাজে আসে নাই। তবে এই মুহুর্তে কোন কর্মসূচি নেই। কিন্তু দুই-একদিনের ব্রহ্মপুত্র নদের ওই ভাঙন ঠেকাতে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হবে|