ইরাক ও সিরিয়ার কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণকারী ইসলামিক স্টেট বা আইএস গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন অভিযানে বাংলাদেশ যোগ দিচ্ছে না। তবে সেখানে ওই অঞ্চলে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে জাতিসংঘের নেতৃত্বে কোনও কর্মসূচি গ্রহণ করা হলে তাতে অংশ নিতে আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। মঙ্গলবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এসব তথ্য জানান।
আগামী ১৬ ও ১৭ অক্টোবর ইতালির মিলানে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া ইউরোপীয় আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর যোগদান বিষয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সচিব শহিদুল হক, সচিব (দ্বিপক্ষীয়) মুস্তাফা কামালসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা ছিলেন।
আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল কায়দা দুর্বল হওয়ার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে সম্প্রতি সক্রিয় হয়ে উঠেছে আইএস। সিরিয়া ও ইরাকের কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তারা ইসলামী খেলাফত (রাষ্ট্র) ঘোষণা করেছে। আইএস ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে যে অভিযান শুরু হয়েছে, তাতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ যোগ দিয়েছে। এরপর গত ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৬৯তম সাধারণ অধিবেশনের সময় নিরাপত্তা পরিষদ আইএস নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠক করে, যাতে অনেক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশও অংশ নেয়। আইএস'র বিরুদ্ধে ওই অভিযানে বাংলাদেশও যোগ দিচ্ছে কি না- মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রশ্ন করা হয় মাহমুদ আলীকে। উত্তরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইরাক, সিরিয়ার স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব এবং টেরিটোরিয়াল ইন্ট্রিগ্রিটিতে বিশ্বাস করে, আমরা চাই এটা সংরক্ষণ করা হোক। সন্ত্রাসবাদ সম্বন্ধে বাংলাদেশের অবস্থান তো পরিষ্কার, এই প্রসঙ্গে বলেন তিনি। বাংলাদেশ সরকার সন্ত্রাসবাদকে জিরো টলারেন্সের বরাবরই বলে আসছে। সেই সঙ্গে এটাও বলছে, বাংলাদেশের মাটি কোনও দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হতে দেবে না।