সাংসদ মীমাংসা করলেন হত্যা মামলা

হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনের সাংসদ মোহাম্মদ আবদুল মুনিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে হিজড়া আদর খাঁ হত্যা মামলা আপস করার অভিযোগ উঠেছে। ওই মামলার প্রধান আসামি সাংসদের ছোট ভাই বেলাল চৌধুরী।

পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলার জহুরপুর গ্রামের দৌলত খাঁর ছেলে আদর খাঁকে (২০) গত ২৫ জানুয়ারি রাতে মুঠোফোন চুরির অভিযোগে আউশকান্দি বাজারে আটক করেন স্থানীয় আমিন ডেকোরেটরের মালিক বেলাল চৌধুরী। মারধরের পর রাত দেড়টায় আদর খাঁকে গোপলার বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে যান। কেন্দ্রের দায়িত্বরত এএসআই জাকির হোসেন আদরের অবস্থা বেগতিক দেখে তাঁকে নিতে রাজি হননি। পরে বেলাল চৌধুরী ও তাঁর কর্মচারীরা অটোরিকশায় করে পাশের দুর্লভপুর গ্রামে আদর খাঁর বন্ধু আরেক হিজড়ার বাড়িতে ফেলে আসেন। সেখান থেকে নবীগঞ্জ উপজেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই দিলু খাঁ বেলাল চৌধুরীসহ অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামি করে ২৬ জানুয়ারি মামলা করেন। এ বিষয়ে ২৮ জানুয়ারি একটি দৈনিকে ‘সাংসদের ভাইয়ের পিটুনিতে প্রতিবন্ধীর মৃত্যুর অভিযোগ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এদিকে পুলিশ গত ১২ জুন আদালতে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। অবশ্য আদালত এ প্রতিবেদন গ্রহণ না করে তা শুনানির জন্য দিন ধার্য করে রেখেছেন।
এলাকাবাসী জানান, আদর খাঁ চার ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট। মামলার পর থেকেই হতদরিদ্র পরিবারটিকে সাংসদ ও তাঁর লোকজন নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন নিষ্পত্তির জন্য। সম্প্রতি দুর্লভপুর গ্রামে সুরমা ফিশারিতে ফিশারির মালিক শামীম আহমেদ চৌধুরীর উদ্যোগে একটি মীমাংসা সভা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ মোহাম্মদ আবদুল মুমিন চৌধুরী, নবীগঞ্জ থানার ওসি (সদ্য বদলি হওয়া) জাহাঙ্গীর আলম, কুর্শি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সৈয়দ খালেদুর রহমান, ইউপি সদস্য সুজন মিয়া প্রমুখ।
সালিসে উপস্থিত থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান, সাংসদ বাদীর পরিবারকে সামাজিকভাবে চাপে ফেলে আপস করতে বাধ্য করেছেন। দিলু খাঁ বলেন, সাংসদ ক্ষমতাধর মানুষ। তাঁদের সঙ্গে কোনোভাবেই পারার নয়। এ কারণে তিনি বাধ্য হয়েছেন মামলা শেষ করতে। থানার বর্তমান ওসি লিয়াকত আলী জানান, তিনি আপস হওয়ার বিষয়টি শুনেছেন। কয়েকজন সাক্ষী আদালতে বলেছেন, এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না।

তবে সাংসদ আবদুল মুনিম চৌধুরী প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, বাদী স্বেচ্ছায় নিষ্পত্তি করতে এসেছেন। এলাকাবাসীর অনুরোধে তিনি সহায়তা হিসেবে দেড় লাখ টাকা দিয়েছেন।