নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় অপহরণের পর চেতনানাশক স্প্রে ও পরে পলিথিন মুড়িয়ে শ্বাসরোধ করার কিলিং মিশনে থাকা গ্রেপ্তারকৃত র্যাব সদস্য ল্যান্স করপোরাল রুহুল আমিনকে দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চাঁদনী রূপমের আদালতে এ রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ৮ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে গত ৮ অক্টোবর ৭ দিনের রিমান্ডে নিয়েছিল পুলিশ। ৭ অক্টোবর পটুয়াখালীর বাউফল এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল।
নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন জানান, নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটির করা পাঁচ খুনের মামলায় রুহুল আমিনকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চান তদন্ত কর্মকর্তা। বিচারক দ্বিতীয় দফায় তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির ওসি মামুনুর রশিদ মণ্ডল জানান— ২৭ এপ্রিল দুপুরে সাতজনকে অপহরণের পর তাদের মুখে চেতনানাশক ওষুধ স্প্রে করে অচেতন ও পরে পলিথিন মুড়িয়ে শ্বাসরোধ করার কাজে ছিলেন রুহুল আমিন। ইতোমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়া র্যাব সদস্যরা এ তথ্য জানিয়েছেন।
গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার গাড়িচালক ইব্রাহীম অপহূত হন। পরে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় দুটি হত্যা মামলা করেন নিহতের স্বজনরা।
ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত র্যাবের কর্মকর্তাসহ মোট ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে তিন র্যাব কর্মকর্তাসহ ১২ জন আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এ ছাড়া, ঘটনার সাক্ষী হিসেবে ১৪ জন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।