আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস করতে দেবে না আওয়ামী লীগ

বিএনপি গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলন করলে বাধা দেবে না আওয়ামী লীগ। তবে আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াও, ভাংচুর, মানুষ হত্যাসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনভাবেই মেনে নেবে না। রাজপথে নেমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোন সুযোগ দেবে না আওয়ামী লীগ। এক্ষেত্রে দলটি কঠোর ব্যবস্থা নেয়ারও প্রস্তুতি নিয়েছে। বিএনপির মানুষ হত্যার আন্দোলন কঠোরভাবে মোকাবিলায় হাইকমান্ডের নির্দেশনা ইতিমধ্যে তৃণমূলে পাঠানো হয়েছে।

গণভবনে গত ৩ অক্টোবর সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বিএনপিকে খুনির দল হিসেবে আখ্যায়িত করে জানিয়ে দেন যে, খুনিদের সঙ্গে কোন সংলাপ নয়। খুনি, ধর্ষক, লুটেরাদের সঙ্গে সংলাপ করার মতো ‘দৈন্য দশায়’ তার সরকার কিংবা বাংলাদেশ পড়েনি। বিএনপির কথিত কঠোর আন্দোলন মোকাবিলা করার ক্ষমতা সরকারের রয়েছে। তাদের মানুষ হত্যা করার আন্দোলন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
জানা গেছে, বিএনপি যতই হুমকি-ধামকি দিক না কেন, ২০১৯ সালের আগে একাদশ নির্বাচন করার পরিকল্পনা সরকারের নেই। আর সংবিধান অনুযায়ী ওই নির্বাচনও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনেই হবে। জাতীয় সংসদে যেহেতু এবার বিএনপির কোন প্রতিনিধি নেই তাই একাদশ নির্বাচনকালীন সরকারেও তারা থাকছেন না।   
এদিকে বিএনপির আন্দোলন শক্ত হাতে মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে আগামী ডিসেম্বর মাসে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণার মাধ্যমে নগর নেতার নাম ঘোষণা করা হচ্ছে। ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত হওয়ায় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিও দু’ভাগে বিভক্ত করা হচ্ছে। দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকসহ দলীয় ফোরামের বিভিন্ন আলোচনায় শেখ হাসিনা নিজেও এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
ডিসেম্বরের মধ্যে সারাদেশে জেলা-উপজেলাসহ মেয়াদোত্তীর্ণ সব কমিটি-সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব এনে সংগঠনকে চাঙ্গা করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিএনপির আন্দোলন মোকাবেলার উপযুক্ত করতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম হাইকমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে আওয়ামী লীগ ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। আর সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকবেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। সারাদেশে তৃণমূল সম্মেলন সুষ্ঠুভাবে দ্রুত সম্পন্ন করতে সৈয়দ আশরাফকে দায়িত্ব দিয়েছেন দলের হাইকমান্ড। আগামী সপ্তাহে ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট ও রংপুর বিভাগের মেয়াদোত্তীর্ণ সব জেলা-উপজেলা শাখা সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হবে।
গত তিন দফা সময়সীমা নির্ধারণ করেও সারাদেশে আওয়ামী লীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। বারবার লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় দলের হাইকমান্ড কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বেশ কয়েকটি বৈঠকে রীতিমতো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলন দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সমন্বয়কের দায়িত্ব পাওয়া কেন্দ্রীয় সাত সাংগঠনিক সম্পাদককে বারবার তাগিদ দিয়ে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে এবার এক্ষেত্রে কারো গাফিলতি সহ্য করা হবে না বলেও হুঁশিয়ার উচ্চারণ করেন দলের হাইকমান্ড।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন ইত্তেফাককে জানান, বিএনপির আন্দোলন কিভাবে মোকাবেলা করা হবে তার নির্দেশনা দলের হাইকমান্ড দিয়ে দিয়েছেন। তবে তাদের আন্দোলন মোকাবেলার সঙ্গে সংগঠন শক্তিশালী করার কোন সম্পর্ক নেই। আওয়ামী লীগের আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিএনপির আন্দোলন মোকাবেলার জন্য আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই দলকে সার্বিকভাবে প্রস্তুত করবে আওয়ামী লীগ। তৃণমূল সম্মেলন সম্পন্নের মাধ্যমে একদিকে যেমন নতুন নেতৃত্ব আসবে, অন্যদিকে মানুষ হত্যার আন্দোলন মোকাবেলায় হাইকমান্ডের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা তাদের দিয়ে দেয়া হবে।
এদিকে গতকাল রাতে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলা কমিটির কাউন্সিল সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত টিমের সভায় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি এ বিভাগের বিভিন্ন সম্মেলনের সম্ভাব্য তারিখ উপস্থাপন করলে তা চূড়ান্ত করা হয়।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীর কবীর নানক এমপি, আফজাল হোসেন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, আখতারউজ্জামান, মির্জা আজম এমপি, মৃণাল কান্তি দাস এমপি, সুজিত রায় নন্দী, জুনায়েদ আহমেদ পলক এমপি প্রমুখ।

আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১৮ অক্টোবর পাবনার আটঘরিয়া উপজেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর পৌর কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ২৩ অক্টোবর মোহনপুর উপজেলা, ২৫ অক্টোবর রাজশাহী মহানগর, গোমস্তাপুর উপজেলা, ২৬ অক্টোবর ভোলাহাট উপজেলা, ২৯ অক্টোবর পাঁচবিবি পৌর, ৩০ অক্টোবর চাটমোহর উপজেলা, নাচোল উপজেলা, ৩১ অক্টোবর বেড়া পৌর ও বেড়া উপজেলা, ১ নভেম্বর সাঁথিয়া উপজেলা, শিবগঞ্জ উপজেলা, ২ নভেম্বর কালাই উপজেলা, ৫ নভেম্বর চারঘাট উপজেলা, পোরশা উপজেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা, ৭ নভেম্বর সাপাহার উপজেলা, ৮ নভেম্বর পাবনা সদর উপজেলা, নিয়ামত উপজেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর, ৯ নভেম্বর জয়পুরহাট জেলা, গোদাগাড়ী উপজেলা, ১০ নভেম্বর দুর্গাপুর উপজেলা, ১৪ নভেম্বর পবা উপজেলা, ভাঙ্গুড়া উপজেলা, ১৫ নভেম্বর বাঘা উপজেলা, ১৬ নভেম্বর গুরুদাসপুর উপজেলা ও পৌর, কাঁকনহাট পৌর, ২২ নভেম্বর চাঁপাইনববাগঞ্জ জেলা, পাবনা পৌর, রানীনগর উপজেলা, ২৩ নভেম্বর বড়াইগ্রাম উপজেলা ও বনপাড়া পৌর, ২৪ নভেম্বর ধামুইরহাট উপজেলা, ২৬ নভেম্বর পত্নীতলা উপজেলা, ২৭ নভেম্বর রাজশাহী জেলা, মান্দা উপজেলা, ২৯ নভেম্বর পাবনা জেলা, নওগাঁ পৌর, ৩০ নভেম্বর নাটোর জেলা, ২ ডিসেম্বর মহাদেবপুর উপজেলা, ৩ ডিসেম্বর বদলগাছি উপজেলা, ৪ ডিসেম্বর নওগাঁ সদর উপজেলা, ৬ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জ জেলা, ৯ ডিসেম্বর নওগাঁ জেলা ও ১০ ডিসেম্বর বগুড়া জেলা কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে।