বিজ্ঞানের বদৌলতে মঙ্গল গ্রহের কথা আমরা অনেকেই জানি। উন্নত বিশ্বে তো মঙ্গলে বাস করার জন্য অনেকে ইতোমধ্যে কোটি কোটি ডলারের বিনিময়ে প্লট বরাদ্দও দিয়েছেন! তবে তাদের জন্য একটি দু:খজনক খবর দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মঙ্গলে বাস করতে পারবেন তবে জীবনের মেয়াদ হবে মাত্র ৬৮ দিন!
মার্স ওয়ান নামের একটি প্রতিষ্ঠান লাল গ্রহ মঙ্গলে মানুষের স্থায়ী উপনিবেশ স্থাপনের প্রকল্প নিয়েছে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, মঙ্গলের বর্তমান যে অবস্থা তাতে সেখানে মানুষ ৬৮ দিনের বেশি বাঁচতে পারবে না। হল্যান্ডভিত্তিক ওই অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ২০২৪ সালের মধ্যে মঙ্গল গ্রহে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য একটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে স্থায়ীভাবে মঙ্গলে বসবাসের জন্য আবেদনের আহ্বান জানালে দুই লাখ আবেদন জমা পড়ে। এদের মধ্য থেকে এক হাজার ব্যক্তির একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে মঙ্গলে বসবাসের জন্য ২৪ জনকে বাছাই করা হয়। কিন্তু সমপ্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি’র (এমআইটি) একদল গবেষকের এক গবেষণায় দেখিয়ে দিয়েছে, মঙ্গল গ্রহের পরিস্থিতি ও মানুষের প্রাযুক্তিক সীমাবদ্ধতার কারণে মার্স ওয়ানের এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা অসম্ভব। পরিস্থিতি উপযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে তাদের। বর্তমান অবস্থায় লাল গ্রহ মঙ্গলের পরিস্থিতি এমন যে, সেখানে যাওয়ার পর দুই মাসের মধ্যেই অক্সিজেনের মাত্রা কমে যেতে শুরু করবে এবং ৬৮ দিন পর মানুষ মারা যেতে থাকবে। এমআইটি’র ওই গবেষকরা বলেছেন, স্থায়ীভাবে মঙ্গলে বসবাস করতে হলে নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে হবে। ডাচ প্রতিষ্ঠানের ওই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, খাদ্য ও প্রযুক্তিগুলোকে গণিতের সূত্রে ফেলে বিশ্লেষণ করে ৩৫ পাতার একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছেন গবেষকরা। মঙ্গলের ওই উপনিবেশে অক্সিজেন উত্পাদনের জন্য যে গাছপালা নিতে হবে, তা নেয়ার সময়, মহাকাশযানে অনিরাপদ পরিমাণ অক্সিজেন উত্পাদিত হতে পারে। এই অক্সিজেন অপসারণের জন্য কোনো এক ধরনের অক্সিজেন রিমুভাল প্রয়োজন হবে। কিন্তু এ ধরনের কোনো প্রযুক্তি মহাকাশযানের জন্য এখনও তৈরি করা হয়নি। মঙ্গলে বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় রসদ সরবরাহের খরচ ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে দাঁড়াবে। তবে এমআইটি’র গবেষকরা অপর্যাপ্ত তথ্য ব্যবহার করে গবেষণাটি করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন মার্স ওয়ান এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী বাস ল্যান্সড্রপ। - এনডিটিভি