ওয়ারড্রোবে স্বামীর লাশ রেখে থানায় স্ত্রীর ফোন

 
 
 
 
 
   
রাজধানীর কল্যাণপুরে হত্যার পর সারা দিন বাসার ওয়ারড্রোবে স্বামীর লাশ লুকিয়ে রেখে রাতে নিজেই থানায় ফোন করে ধরা দিয়েছেন এক গৃহবধূ। স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হত্যা করেছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন ওই নারী। এ ঘটনায় নিহতের দুলাভাই নাজমুল হোসেন বাদী হয়ে মিরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তাতে স্ত্রী, তার বাবা, মা, মামাসহ ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মিরপুর থানার ওসি সালাউদ্দিন আহমেদ জানান— বুধবার রাতে কল্যাণপুরের একটি বাসা থেকে সালাউদ্দিন মালের (৪৫) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তার স্ত্রী লাবনী আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বলেন, সালাউদ্দিনের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে বুধবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে স্বামীকে হত্যা করে বাসার ওয়ারড্রোবের মধ্যে লাশ লুকিয়ে রাখে লাবনী। বুধবার ভোরে ওই হত্যাকাণ্ড হলেও লাবনী রাত ৮টার দিকে থানায় ফোন দেন বলে জানান তিনি। হত্যাকাণ্ডে লাবনীর বাবা-মা ও তার এক মামা জড়িত বলে সন্দেহ পুলিশের। গ্রেফতারকৃত লাবনী আক্তারকে আজ দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
মিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম বলেন, লাশটি লেপ ও চাদর দিয়ে মুড়ে ওয়ারড্রোবের ভেতরে রাখা ছিল। মাথা নিচে ও পা ওপরের দিকে করে লাশটি ভাঁজ করা ছিল। লাশের শরীরে বেশ কয়েকটি ধারাল অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এসআই রফিকুল ইসলাম জানান, আটক স্ত্রী লাবনী অভিযোগ করেছেন, ছয় মাস আগে স্বামী গোপনে আরেকটি বিয়ে করেছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল।
নিহত সালাউদ্দিনের চাচাতো ভাই মুরাদ জাহান বলেন, ১৩ বছর আগে সালাউদ্দিনের সঙ্গে লাবনীর বিয়ে হয়। তাদের দুটি মেয়ে রয়েছে। একজনের বয়স সাত বছর ও আরেকজনের চার। সালাউদ্দিনের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে পরিবারে অশান্তি চলছিল। গত মঙ্গলবার দুপুরে সালাউদ্দিনের মা পারভীন আক্তার তাদের বাড়ি যান। সেখানে গিয়ে তিনি বিষয়টি মীমাংসা করবেন বলে লাবণীকে জানান। অথচ ওই দিন রাতেই সালাউদ্দিনকে হত্যা করা হয়। 

ওসি সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, একা লাবনীর পক্ষে তার স্বামীকে হত্যা করা সম্ভব নয়। স্বামী হত্যার দায় একার কাঁধে নিতেই লাবনী থানায় ফোন করে নিজে গ্রেপ্তার হন। তার ভাই ও বাবাকে গ্রেপ্তার করলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। তিনি বলেন, তাদের বাসার কোথাও রক্তের দাগ নেই। সব কিছু পরিষ্কার। বাসায় তাদের দুই ছেলে-মেয়ে থাকলেও কেউ কিছু জানে না। মুরগী ব্যবসায়ী সালাউদ্দিনের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুরে। আর লাবনীর গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। ময়নাতদন্তের পর তার লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গ থেকে স্বজনরা আজ নিয়ে গেছেন।