বাফুফে সভাপতি বললেন, ‘আমি তাকে সময় দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমাদের ফুটবলের জন্য সময় দিতে পারেন না। দল গঠন করতে খেলোয়াড় বাছাই করার সময় ছুটি নিয়ে চলে যান। যখনই জাতীয় দলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ খেলা থাকে তখনই তিনি দেশে যাওয়ার আবদার করেন।’
g স্পোর্টস রিপোর্টার
বাংলাদেশ ফুটবল দলের কোচের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে ডাচ কোচ লুডভিক ডি ক্রুইফকে। একই সাথে তারই সহকারী স্বদেশী রেনে কেস্তারও একই পরিণতি বরণ করতে হল। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন গতকাল দুপুরে জানিয়ে দিয়েছেন ডাচ কোচদের আর রাখা হবে না। বিকেএসপিতে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলার জন্য বিকেএসপিতে অনুশীলনরত ফুটবল দলের কোচের দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন সাইফুল বারী টিটু। ২৪ অক্টোবর যশোরে এবং ২৭ অক্টোবর রাজশাহীতে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ম্যাচ। নেদারল্যান্ডস থেকে আজ ভোরেই ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে ক্রুইফের।
ডাচ কোচ ক্রুইফকে রাখা হবে না এবং কি কারণে তাকে রাখা হচ্ছে না, ক্রুইফের সব কর্মকাণ্ড বাফুফে ফিফাকে অবহিত করবে। ফিফার কোনো পরামর্শ থাকলে সেটা অনুসরণ করবে বাফুফে। তবে ক্রুইফকে নিয়ে না কাজ করার ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে বাফুফে।
ক্রুইফ তার বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানানোর পাশাপাশি তিনি বাফুফের কর্মকর্তাদেরও অযাচিত ভাষায় কথা বলে আসছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সব সময় নিজেদের দেশে গিয়ে বেতন পরিশোধের দাবি করে বাংলাদেশে না আসার হুমকি দেন। দেশে বসে বেতন হাতে পেয়ে তারপর ঢাকায় আসতে চান তিনি। এমন কাজ বার বারই করে আসছিলেন ক্রুইফ। কাল বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন এমন সব অভিযোগই এনেছেন, ‘ক্রুইফ সিনসিয়ার না। সিনসিয়ারিটির অভাব। ফুটবল দলের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে পারেননি।’
দলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কোচ দেশে যেতেন। ছুটি কাটাতেন। নানা ভাবে, প্রয়োজনে, অপ্রয়োজনে ছুটি নিয়ে দেশে গিয়েছেন। বাফুফে সভাপতি বললেন, ‘অনেক অজুহাত দেখিয়ে ক্রুইফ ছুটি নিয়ে দেশে চলে যেতো। আমরাও মেনে নিতাম। কারণ একটা সাফল্য পাবো আশা করেছিলাম। কিন্তু তিনি যেভাবে জাতীয় দল নিয়ে কাজ করছিলেন এভাবে চলে না। আমরা অনেক কষ্ট করে অর্থ সংগ্রহ করে ২৫ লাখ টাকা বেতন দিয়ে আসছিলাম। কিন্তু তিনি সেটার মূল্য দিতে পারেননি।’
শ্রীলংকার বিরুদ্ধে খেলা, ত্রুদ্ধইফ দেশ থেকে বার্তা পাঠিয়েছেন তিনি আসবেন, দুই ম্যাচ শেষ করে মালয়েশিয়ায় যাবেন সেমিনারে। সেখান থেকে আবার নেদারল্যান্ডস ফিরে যাবেন। এটা কী ধরনের আবদার।’
ক্রুইফকে গত জুন মাসে চুক্তি হওয়ার পর এই পর্যন্ত ২১২ দিন ছুটি কাটিয়েছেন বলে জানিয়েছে বাফুফে। বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে অবহেলা করার কারণে বাফুফে সভাপতি চটেছেন ডাচ কোচের উপর। তিনি বললেন, ‘বেতন বকেয়া আছে। এটা থাকতে পারে। সেটা আমার সাথে টেবিলে আলোচনা করতে পারে। কিন্তু তা না করে হল্যান্ড গিয়ে হুমকি দেয় টাকা না পাঠালে আসবো না। এখান থেকে টাকা পাঠালে তিনি আসবেন। বেতনের কথা সাংবাদিকদের জানায়। সাংবাদিকরাও আমার সাথে কথা না বলে এক তরফা লিখে দেয়। সারাক্ষণ ওর নানা অজুহাত মেনে নিতে হয়েছে। কোরিয়ার মতো দেশে গিয়েও তার সুযোগ-সুবিধা পছন্দ হয় না। আরো চাই তার। ওরা যেভাবে সুযোগ-সুবিধা চেয়েছে আমরা সেভাবেই দেয়ার চেষ্টা করেছি। তার যদি এতোই সমস্যা হয় সে তো পদত্যাগ করে চলে যেতে পারতো।’
গত বছর নেপালে অনুষ্ঠিত সাফ চাম্পিয়নশিপ টার্গেট করে ডাচ কোচ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু তার অধীনে বাংলাদেশ গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। ক্রুইফ বাংলাদেশকে কোনো সাফল্য দিতে পারেননি। তারপরও বাফুফে সভাপতি বললেন, ‘আমি তাকে সময় দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমাদের ফুটবলের জন্য সময় দিতে পারেন না। দল গঠন করতে খেলোয়াড় বাছাই করার সময় ছুটি নিয়ে চলে যান। যখনই জাতীয় দলের কোনো গুরুত্বপূর্ণ খেলা থাকে তখনই তিনি দেশে যাওয়ার আবদার করেন। ছুটি দিতে আমাদেরকে বাধ্য করা হয়। তারপরও আমি দেশের ফুটবলের স্বার্থ চিন্তা করে অপেক্ষা করেছি, মাঠে যদি ফল আসে এই আশায়।’
বাফুফে সভাপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তাকে নেয়াটাই আমাদের ভুল হয়েছে।’ ২০১৩ সালে জুনে ক্রুইফের সাথে বাফুফের এক বছরের চুক্তি হয়। এ বছর জুনে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়নি। ক্রুইফ যদি বর্তমান পরিস্থিতিতে কাজ করতেও চায় তা মানবে না, সালাহউদ্দিনের সাফ কথা, ক্রুইফকে বিদায়।
সব মিলিয়ে অর্থ এটাই দাঁড়াচ্ছে যে, বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ১৬তম কোচের পর্বটা এখানেই শেষ হল!