রাজধানীর ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যার ঘটনায় ওই কলেজের হোস্টেল সুপারসহ দুই জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার হোস্টেল সুপার ওমর ফারুক এবং সহকারী হোস্টেল সুপার আশরাফ আলীকে নিয়মিত মামলায় আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানো নির্দেশ দেন।
এর আগে শুক্রবার ভোরে ওই কলেজের হোস্টেল থেকে জাহিদুল ইসলাম রায়হান নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিনই এ ঘটনায় নিহতের চাচা আব্দুল আওয়াল শিকদার বাদী হয়ে ভাটারা থানায় ওই দুই শিক্ষককে আসামি করে মামলা করেন (নম্বর-১৭)।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, রায়হানের বাবার নাম সাকের উলাহ এবং মায়ের নাম রোকসানা বেগম। গ্রামের বাড়ি কক্সবাজারের সদর থানার ফেরাকুল গ্রামে। রায়হান ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি ১ম বর্ষের ছাত্র। ওই কলেজের হোস্টেলের ৬ষ্ঠ তলার ৬০৮ নম্বর রুমে সে থাকতেন। ঈদুল আযহার সময় রায়হান গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যায়। গত ১০ অক্টোবর রাতে কলেজের হোস্টেলে ফিরে আসে। গত ১৬ অক্টোবর রাতে রায়হান তার বাবার সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেন।
ওই সময়ে রায়হান তার বাবাকে জানান, হোস্টেলে সমস্যা আছে। হোস্টেল সুপার ওমর ফারুক ও সহকারী হোস্টেল সুপার আশরাফ আলী সমস্যা সৃষ্টি করছে। পরে শুক্রবার সকালে হোস্টেল সুপার ওমর ফারুক রায়হানের বাবা সাকের উলাহকে মোবাইল করে জানায়, শুক্রবার রাত একটা থেকে শনিবার সকাল ৮টার মধ্যে হোস্টেলের ৬১৩ ও ৬১৪ বেডের রুমে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
ভাটারা থানার ওসি সরওয়ার হোসেন বলেন, নিয়মিত মামলায় হোস্টেল সুপার ওমর ফারুক ও সহকারী হোস্টেল সুপার আশরাফ আলীকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রায়হানের মৃত্যুর ব্যাপারে তারা দায়ি কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১৫ আগস্ট ক্যামব্রিয়ানের গুলশানের ছাত্রীনিবাস থেকে নাঈমা বিনতে নাহিদ (১৪) নামের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নাঈমা ক্যামব্রিয়ানের স্কুল শাখার দশম শ্রেণিতে পড়ত। ওই ঘটনাটিকেও আত্মহত্যা বলে দাবি করে ক্যামব্রিয়ান কর্তৃপক্ষ।